‘রসগোল্লার আবিষ্কারক বরিশালের লোক’

প্রকাশঃ নভেম্বর ১৪, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

উৎসব পার্বণ এমনকি যে কোন ধরনের অনুষ্ঠান বা সুসংবাদে মিষ্টি পরিবেশন করা বহুকাল ধরেই বাঙ্গালি সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বহু প্রকার মিষ্টির মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সেটি হলো রসগোল্লা।

বাংলাদেশের বনেদি মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী কিংবা ভোক্তাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন রসগোল্লার জন্ম হয়েছিলো বাংলাদেশের কারিগরদের হাতেই। একই ধরনের অভিমত দিয়েছেন একজন খাদ্য গবেষক। আবার এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

খাদ্য বিষয়ক লেখক ও গবেষক শওকত ওসমান বলেন, লিখিত কোন প্রমাণ না থাকলেও তাদের ধারনা ষষ্ঠ শতকে দক্ষিণাঞ্চলীয় পটুয়াখালীতে পর্তুগীজরা দুধ থেকে পনির, সন্দেশ তৈরি করতো। সেগুলো দিয়েই তাদের বাঙ্গালী স্ত্রীরা তৈরি করেছে রসগোল্লা বা এ ধরনের মিষ্টান্ন।

তিনি বলেন, রসগোল্লা আবিষ্কারক হিসেবে কলকাতায় যে নবীন চন্দ্রের কথা বলা হয় তিনি বরিশাল অঞ্চলের লোক এবং পটুয়াখালীর কাছেই থাকতেন। তার হাত ধরে শিল্পটি সেখানে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের ভোক্তাদের বেশিরভাগই বিশ্বাস করেন রসগোল্লা বাংলাদেশেরই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খুরশীদ জাহান বলেন বাংলাদেশে প্রাচীন হলেও রসগোল্লার জন্ম এদেশে নয়।

১৪৫ বছর ধরে মিষ্টান্ন ব্যবসার জন্যে পরিচিত প্রতিষ্ঠান মরণ চাঁদ গ্র্যান্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি শাখা রয়েছে ঢাকায়। এর ফার্মগেট শাখার ব্যবস্থাপক রবীন্দ্রনাথ রায়ও বলেন রসগোল্লা বাংলাদেশের কারিগরদেরই একটি অসাধারণ উদ্ভাবন। তবে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

আবিষ্কার নিয়ে বিতর্ক যাই থাকুক রসগোল্লা যে সবসময় বাঙ্গালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়েই থাকবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই কারো মধ্যেই।

রসগোল্লা কার? এ নিয়ে ভারতের দুটি রাজ্যের মধ্যে চলছিলো লড়াই। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে উড়িষ্যাকে হারিয়ে রসগোল্লার জিআই রেজিস্ট্রেশন আদায় করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

মিষ্টান্নটির মালিকানা চেয়ে ২০১৫ সালের জুনে প্রথম দাবি করে ওড়িশা। রাজ্যটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক আগে থেকেই রাজ্যটির পুরীর মন্দিরে রসগোল্লা উৎসর্গ করা হতো দেবতা জগন্নাথকে। তাই রসগোল্লা আবিষ্কারের স্বীকৃতি শুধু তাদেরই প্রাপ্য। রাজ্যটিতে ঘটা করে রসগোল্লা দিবস পালনও শুরু করা হয়।

কিন্তু পাল্টা দাবি করে পশ্চিমবঙ্গ বলে, রসগোল্লা একেবারেই তাদের সৃষ্টি। ওড়িশার জগন্নাথ মন্দিরে রসগোল্লা ভোগ দেওয়ার সঙ্গে মিষ্টান্নটির সৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই।

এমন পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের তরফ থেকে রসগোল্লার মালিকানার দাবি জানিয়ে জিআইয়ের কাছে আবেদন করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের পর থেকে বেশ কয়েকবার জিআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা। পরে জিআইয়ের কর্মকর্তারা কলকাতা ও ওডিশায় গিয়ে রসগোল্লার ইতিহাস নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে আলোচনা করা হয় রসগোল্লার জনক বলে খ্যাত নবীন চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গেও।

অনুসন্ধান শেষে জিআই জানায়, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে যে মিষ্টি ভোগ দেওয়া হতো, তার সঙ্গে বাংলার রসগোল্লার কোনো সম্পর্ক নেই। রসগোল্লা একেবারেই বাংলার সৃষ্টি। আর এর মধ্য দিয়ে রসগোল্লার আবিষ্কর্তা হিসেবে পাকাপাকিভাবে জিআইয়ের স্বীকৃতি পেল পশ্চিমবঙ্গ।

কমেন্টস