সংবাদিক আতাউল্লাহ্ আনসারী কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি

প্রকাশঃ নভেম্বর ১২, ২০১৭

মোঃ হারুন-উর-রশীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-

ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট সংবাদিক আতাউল্লাহ আনসারী আতা’র ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১১ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৪ টায় ফুলবাড়ীর রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাতে দোয়া ও তার কর্মময়জীবন ঘিরে এক স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রথমে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওঃ মমিনুল ইসলাম মমিন। ফুলবাড়ী অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ফুলবাড়ী বার্তা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ী বার্তা’র উপদেষ্টা সম্পাদক কৈলাশ প্রসাধ গুপ্ত, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি আতাউর রহমান হিটলার, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শেখ সাবীর আলী লকা ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, ফুলবাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন-উর-রশীদ, ফুলবাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবু শহিদ জাতীয় সংবাদিক সংস্থা ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি আব্দুল হাফিজ, বীরেন্দ্রনাথ শর্মা কৈলাশ।

এছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন, প্রয়াত সাংবাদিক আতা’র ভাতিজা আরিফ, মরহুম সাংবাদিক রেজাউল ইসলামের বড় ছেলে বেসরকারি সংস্থা (সমাজ) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাসেল পারভেজ মাইনিং সিটি টুয়েন্টিফোর ডটকম এর বার্তা প্রধান ইমাম রেজা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত আতা’র ভাগনে সুজাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আল-ফয়সালসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

বক্তারা সাংবাদিক আতাউল্লাহর কর্মময় জীবনের নানান স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় চরম আবেগের আবহ তৈরি হয়।

পাশাপাশি প্রবীণ সাংবাদিকরা বলেন, আজ আতাউল্লাহ আনসারির মত সাংবাদিকের বড়ই অভাব। তিনি অন্যায়ের সঙ্গে কখনোই আপোষ করেননি। সব সময় অসহায়, অবহেলিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে থেকেছেন। তিনি সাংবাদিক সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন। তাকে অনুস্বরণ করতে পারলেই নবীন সাংবাদিকরা অনেক ভালো করতে পারবে।

ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংবাদিকরা বলেন, আমাদের এখনো শুনতে হয় ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের জন্য জায়গার প্রয়োজন। ১৯৮৭ সালে ফুলবাড়ীর শহরের মাদ্রাসা রোডের জেলা পরিষদের ৬ শতক জায়গা ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। সে সময় বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর প্রেসক্লাবের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মীর্জা মোহাঃ নওফেল উদ্দিন, সাংবাদিক আহসানুল আলম সাথী, আতাউর রহমান হিটলার, অমর চাঁদ গুপ্ত, অপু, বাতাসু মিয়া, সারওয়ার্দী সরকার ও বাবুলাল গুপ্ত।

বর্তমানে ঐ জায়গাটিতে রাঙ্গামাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসত বাড়ী নির্মাণ করে আছেন। প্রশ্ন হলো, জায়গাটি ঐ শিক্ষকের কাছে কারা হস্তান্তর করলো! এখনোই সময়, এগুলো প্রশ্নের উত্তর বের করার। এবং এর সাথে যারা জড়িত তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। মন্ত্রী মহোদয়, উনী আমাদের সবার অভিভাবক জায়গা দিলে তিনি বাকী সবকটি প্রেসক্লাবকে জায়গা দিবেন। আর এটাই তো স্বাভাবিক।

বিশেষ করে বক্তারা বলেন, খুব আনন্দের বিষয় আজ বহুদিন পর ফুলবাড়ীর প্রায় সব সাংবাদিক (কয়েকজন ছাড়া) এক কাতারে শামিল হয়েছে। আমরা সাংবাদিকরা যদি এগিয়ে যেতে চাই! তাহলে অবশ্যই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি বিজয় অবশম্ভাবী। আর এখানে আমরা যারা প্রবীণ আছি, আমাদের চেয়ার আমরা ছেড়ে দিয়েছি নবীণদের জন্য। ফুলবাড়ীর এখনো অনেকে আছেন, যারা চেয়ার ছাড়তে রাজি নন। এ মন মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ফুলবাড়ী অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মাইনিং সিটি’র প্রকাশক ও সম্পাদক।

জাগো রংপুরের বার্তা প্রধান খাজানুর হায়দার লিমন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তবে বলেন, আতাউল্লাহ আনসারি আতা’র উৎসাহে আমার সাংবাদিকতায় আসা। এই নির্ভিক, নির্লভ মানুষটি বেঁচে থাকলে ফুলবাড়ীর কিছু অপসাংবাদিকদের অপসাংবাদিকতা দেখলে লজ্জায় মরে যেতে চাইতেন। তাই আমাদের উচিত হবে তার নীতি আদর্শ জীবনে ধারণ করে এগিয়ে চলা। তবেই আমরা সফলকাম হবো।

বক্তবের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রবীণ সাংবাদিকদের কাছে সাংবাদিক আতা’র কবরটি নাম ফলক দেয়ার পাশাপাশি শহরের কোনো একটি রাস্তার নামকরণ তার নামে করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক আরিফ খান জয়, ফুলবাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল হাসান রতন, উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মতিন, ইমরান চৌধুরী প্রিন্স, হাফিজুল ইসলাম ও ইকবাল হাসান প্রমুখ।

শেষে সাংবাদিক আতা’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাতে এক দোয়া পরিচালনা করেন সম্মানিত অতিথি শেখ সাবীর আলী।

কমেন্টস