বালিয়াডাঙ্গীতে আগাম জাতের আমন ধানে ভাগ্য খুলেছে কৃষকের

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৭

আল মামুন, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি-

আর্শ্বিন মাস শেষ হতে আর মাত্র দু‘দিন বাকি। এরই মধ্যে আগাম জাতের হাইব্রিড, বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রিধান-৬২ আমন ধান কাটতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক কৃষাণীরা। আগাম জাতের এই ধান চাষের ফলে এক জমিতে পর পর তিনটি ফসল চাষ হচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন এলাকার দরিদ্র কৃষকরা।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের জিয়াখোর গ্রামে কথা হয় কৃষক মানিক হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এবার ৩০ শতক জমিতে বিনা-৭ আগাম জাতের ধানের আবাদ করেছেন। ধান পাকার পর গতকাল থেকে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন। ধানের আবাদে এবার খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। ফলন হবে কমপক্ষে ২০ মণ। যার বাজারদর আনুমানিক সাড়ে ১৫ হাজার টাকা। আর গোখাদ্য হিসেবে খড় বিক্রি করবেন ৩ হাজার টাকার ওপরে। চার বছর ধরেই তিনি আগাম ধান আবাদ করছেন। ধান তোলার পর আগাম আলু, ভুট্টা আর গমের আবাদ করে অনেক লাভবান হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এইটা (ধান) ফাও আবাদ, আলু লাগেবার আগোত ধান ওঠে। এলা জমিত আলু লাগামু, পের থাকা জমিত চাহাতে এইলা জমিত আলু ভালো হয়। আলু উঠাহানে (উঠিয়ে) জমিত ভুট্টা লাগামো।’

 ৬৬ শতক জমিতে ধান আবাদ করেছেন একই গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুল মজিদ। ধান পাকার পর এখন কাটার অপেক্ষা। তিনি বলেন, ‘আগাম ধানের আবাদে কৃষকদের ভাগ্য খুলেছে।’

মানিক, মজিদের মতো সাদ্দাম হোসেন, শরিফুল হকসহ আরো অনেক কৃষক ইতিমধ্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন। ফলে কৃষি শ্রমিকদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে।

কৃষি শ্রমিক সমির উদ্দীন বলেন, ‘আগুতে ভাদর-আশ্বিন মাসত কোন কাজ-কাম ছিলনি এলাকাত। এলা বিনা-৭ ধান আসাতে ধান কাটিবা ফের আলুর লাগার কাম পাছি। ৩০০ টাকা দিনমজুরিত কাম করেছি। গিরোসলাও (কৃষক) ভালো আছে, হামাও কাম করি কয়রা টাকা পায়সা লেহেনে বাচেঁ আছি।’  দুওসুও গান্ডিকারী গ্রামের আরেক কৃষি শ্রমিক দবিবর রহমান বলেন, ‘হামার ঘরত এলা অভাব দুর হচে, কামের অভাবে এলা আর হামাক বসে থাকপা লাগেনি।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ শাফীয়ার রহমান জানান, এবার উপজেলায় ২২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩০৬০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড, বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রিধান-৬২ ধানের আবাদ হয়েছে। ধান কাটা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিঘায় ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত। ধান কাটার পর এসব জমি আগাম আলু আবাদের জন্য প্রস্তত হচ্ছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আলু লাগানো শুরু হবে। এই আলু তুলে কৃষকরা আগাম ফসলের বাজার ধরতে পারবেন।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার তপন মাহমুদ জানান, গত বছর উপজেলায় তিন হাজার ১শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। প্রতিবছর এলাকার কৃষকরা আগাম জাতের আলু চাষ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন।

 

কমেন্টস