কক্সবাজারে ১ মাস থেকে বন্ধ জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৭

তামিরুল ইসলাম মিল্লাতঃ

কক্সবাজার জেলার সবগুলো পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে বন্ধ করা হয়েছে। গত প্রায় ১ মাস থেকে এই জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। স্কুল কলেজে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থী, চাকরী প্রত্যা ও বিদেশগামী লোকজন বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা আসার কয়েক দিন পরে থেকেই জাতীয় সার্ভার থেকে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কতদিন পর আবার সেটা চালু হবে তা বলতে পারছে না।

এ ব্যপারে জনপ্রতিনিধিরা জানান, ব্যাপক হারে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে আসার কারনে এবং তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম চালানোর কারনে সম্ভবত স্থানীয়দের নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের এসএম পাড়া এলাকার বাসিন্দা কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী রাফিয়া বেগম বলেন আমি গত বছর ভোটার তালিকায় নাম উঠিয়েছিলাম তবে এখনো আইডি কার্ড পাইনি। সম্প্রতি আমার এক পরিচিত মামার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি চাকুরির অফার পায় বেতন বেশ ভাল সে জন্য অন্যান্য কাগজ পত্রের সাথে অনলাইনের জন্ম নিবন্ধন দিতে হবে। সে জন্য পৌরসভায় গেলে সেখানে জানতে পারি জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম প্রায় ১ মাস যাবত বন্ধ আছে। এখন আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা। আর সেই এনজিও বলছে হয় ভোটার আইডি না হলে জন্ম নিবন্ধন কার্ড লাগবে।

এ সময় জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, যখন থেকে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে ব্যাপক হারে আসতে শুরু করেছে তার কয়েক দিন পর থেকেই জন্ম নিবন্ধনের জাতীয় সার্ভারে আর কাজ হচ্ছে না, তাই আপাতত জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ আছে।

দিদারুল আলম বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি মূলত রোহিঙ্গাদের কারনে এই সমস্যা হচ্ছে সে জন্য কক্সবাজার বান্দারবান,রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি সহ চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় জন্ম নিবন্ধন বন্ধ আছে। এতে সাধারণ মানুষ বেশ অসুবিধায় পড়েছে। এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ রফিকুল ইসলাম বলেন প্রতিদিন শতশত মানুষ জন্ম নিবন্ধন নিতে আসে কিন্তু না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন এখন বেশ কিছু জায়গায় বাধ্যতা মূলত তাই অনেকে জন্ম নিবন্ধন করাতে না পারায় বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করলে উনারাও কোন সুরাহা করতে পারেন নি। বরং বলা হয়েছে এটা জাতীয় সমস্যা।

পিএমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রহিম বলেন আামদের ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ প্রবাসী। তাদের ব্যাংক লেনদেন থেকে শুরু করে অনেক কাজে জন্ম নিবন্ধন লাগে এছাড়া পাসপোর্ট করতে এবং ভিসা করতেও জন্ম নিবন্ধন লাগে তারা সবাই এখন খুবই বিপদে আছে। সবার তো আর আইডি কার্ড হয় নি। অনেকে ভোটার হওয়ার জন্য ছবি তুলেছে ২ বছর কিন্তু এখনো আইডি পায়নি। প্রায় ১ মাস যাবত জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ আছে কখন খুলবে সেটা ও কেউ বলতে পারছে না।

ভারুয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্ধা আবদুল লতিফ জানান আমার এক ছেলে ৫ বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকে, কোন প্রকার কষ্ট করে দিন চলছে সেখানে তাদের পাসপোর্ট বা ভিসা করতে এখান থেকে জন্ম নিবন্ধন কপি পাঠাতে হয়। এখন আমি গত ১ মাস ধরে ছেলের জন্ম নিবন্ধন সনদ নেওয়ার জন্য ঘোরাঘুরি করছি এখনো পাইনি। মনে হয় শেষ পর্যন্ত ছেলেকে চলে আসতে হবে। তিনি বলেন রোহিঙ্গাদের কারনে আমাদের দেশের বা কক্সবাজারের কি লাভ ক্ষতি হবে সেটা আমি জানি না তবে আমার পরিবার পথে নেমে আসবে সেটা নিশ্চিত।

তিনি বলেন যদি জন্ম নিবন্ধন না পাওয়ার কারনে আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া থেকে চলে আসতে হয় তাহলে আমি আত্বহত্যা করবো। এ ব্যপারে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ওয়ালিদ বলেন ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের এখনে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। মুলতঃ জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারনে সাধারণ মানুষ খুবই অসুবিধায় আছে এর মধ্যে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিশেষ করে অনেক মানুষ মালয়েশিয়া আছে তাদের জন্য খুবই অসুবিধা হচ্ছে কারন এখান থেকে জন্ম নিবন্ধনের কপি না পাঠালে তারা সেখানে ভিসা করতে পারছে না।

এদিকে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন আমার জানা মতে জাতীয় ভাবে সার্ভার নস্ট হওয়ায় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ আছে। হয়তো খুব শীঘ্রই খুলে দেওয়া হবে। এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ওসমান গনি বলেন এখন অক্টোবর মাস ডিসেম্বরে আমাদের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে সেখানে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে ভর্তি হতে হবে। এখন যদি জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকে সেটা মন্ত্রনালয় থেকে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

এব্যাপারে কক্সবাজারের স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক আনোয়ারুল নাসের বলেন জাতীয় ভাবে সার্ভারে কিছুটা যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। এখানে রোহিঙ্গা বিষয় ততবেশি মুখ্য না।

কমেন্টস