সন্তান ব্লু-হোয়েলের মৃত্যু ফাঁদে জীবন বাঁচালেন মা 

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৭

মো. নাজমুল হোসেন, নবাবগঞ্জ-দোহার প্রতিনিধিঃ

বর্তমানে আলোচিত গেইম ব্লু-হোয়েলের মৃত্যু ফাঁদ থেকে সাথী বেগম নামে এক মায়ের কারণে প্রাণ বাঁচলো রিফাত (১৭) নামে এক কিশোরের। রিফাত ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের শুরগঞ্জ গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসি সালাউদ্দিনের ছেলে। রিফাত তাদের পরিবারের একমাত্র ছেলে এবং তার বড় ও ছোট দুই বোন আছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মা সাথী বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিডিমনিংকে বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে রিফাত বাড়ির সকল লোকজনের সাথে কথা বলা বন্ধকরে দেয়। এমন কি সে কারো সাথে কথা বলে না। তিনি আরো বলেন, আমি ইদানিং একটি গেইমের কথা শুনছি এবং টিভিতে খবরেও দেখেছি যে একটা গেইম নাকি বের হইছে যেটার কারনে মানুষ আত্মহত্যা করে। এ  বিষয়ে  কিছু ইঙ্গিতও আমি খবর শুনে জানতে পেরেছি।  এ বিষয়ে ধারণা থাকায় ছেলের আচরণের পরিবর্তন দেখে আমি রিফাতকে প্রশ্ন করি তুই কি ব্লু-হোয়েল গেইম খেলছিস নাকি।

এ সময় রিফাত কিছু না বলে আমার দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকে। আমি কিছুটা আঁচ করতে পারায় পাশের বাড়ির আলমকে ডেকে নিয়ে ঘটনাটা জানাই। আলম ঘটনা বুঝতে পেরে তাৎক্ষনিক তাকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা রিফাতের সমস্য জানতে চাইলে সে তখনও কোনো কথা বলে নি। এক পর্যায়ে তাকে জোড় যবস্থি করলে মুখে কিছু না বলে লিখে জানায় যে সে ব্লু-হোয়েল গেইমের প্রথম ধাপ শুরু করেছে। পরে ডাক্তাররা তার অবস্থা বুঝে তাকে কাউন্সিলিং দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং তার প্রতি খেয়াল রাখতে বলেন।

একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. শাহীন খান বলেন, রিফাত একজন ভাল ছেলে। যে কোনো কারণ বসত সে ২ বছর আগে পড়াশুনা ছেড়ে দেয়। গত ১৫ দিন আগে রিফাত শুরগঞ্জ এলাকায় একটি মোবাইল রিচার্জের দোকান দিয়েছে। আর হঠাৎ করে শুনি রিফাত এই মরন নেশা ব্লু-হোয়েল গেইম খেলতে শুরু করেছে। বিষয়টি শুনে খুব অবাক হয়েছি।

রিফাতের সাথে কথা হলে বিডিমনিংকে সে জানায়, ৭ অক্টোবর দুপুরে তার কাছে ব্লু-হোয়েল গেইমের একটি লিংক আসে। কৌতুহলী বসত সে লিংকে ঠুকে পড়ে। তখন তার কাছে একটি মেসেজ আসে যে রাত ১২ টার পর গেইমটি ডাউনলোড করতে পারবে। পরে সে পরদিন আর না ডাউনলোড না করে ৯ অক্টোবর সোমবার রাতে  ব্লু-হোয়েল গেইমটি ডাউনলোড করে।  এসময় গেইমটি ওপেন করলে তার ই-মেইল আইডি, ফোন নাম্বার ও বিস্তারিত  ঠিকানা চাওয়া হয়। তাদের কথামত সবকিছু পূরণ করার পর ফিরতি একটি মেসেজ দিয়ে তাকে জানানো হয় এখন থেকে সে এই গেইম খেলার অনুমতি পেলো এবং সে এই গেইমটির একজন সদস্য  নির্বাচিত হলেন।

এরপর শুরু হয় গেইমের প্রথম ধাপ। প্রথম ধাপে আমাকে বলা হয় আমি যেনো আজ রাত ১২টার পর থেকে কারো সাথে কোন ধরণের কথা না বলি। এরপর থেকে প্রতি ঘন্টায় আমি কি করি, না করি তার জন্য নানা রকম নোটিফিকেশন আসতে থাকে এবং আমি সেই নোটিফিকেশনের জবাব দেই। তিনি আরো বলেন এই শর্ত ঠিক মত পূরণ করতে পারলে ১০ অক্টোবর রাত ১২টার পর গেইমের ২য় শর্ত দেওয়া হবে বলে নোটিফেকিশনে জানানো হয়। আমি  সকাল থেকে ১ম শর্ত পালন করতে চেষ্টা করলে আমার মা বুঝে যায়। অবশেষে আমি এই মরণ গেইম থেকে ফিরে আসি।

রিফাত সকলকে উদ্দেশ্য বলেন আমি কৌতুহলী বসত গেইমটি শুরু করতে গিয়ে ফেসে যায়। তাই আমি বলতে চাই কেউ যেনো কৌতুহলী তো দূরে থাক ভুল করেও যেনো এই গেইম না খেলে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শহীদুল আমীন ব্লু-হোয়েল গেইমের ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন রিফাত মাত্র গেইমটা শুরু করেছে কিন্তু তার পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তাকে প্রাথমিক ভাবে কাউন্সিলিং দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

কমেন্টস