প্রাণঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’: যেভাবে মৃত্যুর দ্বার থেকে বেঁচে ফিরল মিরপুরের ১৪ বছরের কিশোর

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীর মিরপুরে প্রাণঘাতি গেমখ্যাত ‘ব্লু হোয়েল’ আসক্ত ১৪ বছর বয়সী আরও এক কিশোরের সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঐ কিশোরকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে।

কিশোরটি বর্তমানে ঢামেক নতুন ভবনের ওয়ার্ডের একটি পেয়িং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা তার ডান হাতে ক্ষতচিহ্নও দেখতে পেয়েছেন। চিকিৎসার পর এখন ওই কিশোরের শরীর বেশ সুস্থ।

ঐ কিশোরের বাবা জানান, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় থাকেন তাঁরা। সেখানের একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে তাঁর ছেলে। এর আগে পঞ্চম শ্রেণিতে ছেলেটি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সে খুবই ভদ্র ছেলে হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

ঐ কিশোরের দাবি, চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় গেমটি খেলতে শুরু করে সে। ওই গেমসের নির্দেশনা মানার একপর্যায়ে নিজের শরীরে ব্লেড দিয়ে ক্ষত করে সে। এরপর গেমটির শেষ পর্বে এসে আত্মহত্যার জন্য ঘুমের ওষুধ খায়।

ঐ কিশোরের কথায়, ‘অ্যাডমিনরা অনেক সময় অপমান করে কথা বলত, তাই আমি চ্যালেঞ্জগুলো যে করেই হোক পার করতাম।’

ওই কিশোরের বাবা আরও জানান, গত ঈদুল আজহার পর ছেলের মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন ওই কিশোরের বাবা। তিনি বলেন, ‘খাওয়া-দাওয়া করে না, খালি মোবাইলে গেমস খেলত। অফিস শেষ করে বাসায় এসে জানতে পারি, ছেলে আমার রাতে মোবাইল নিয়ে ছাদে হাঁটাহাঁটি করে। এরপরে গত মঙ্গলবার ছেলে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন বলে জানান ওই বাবা। এরপর সেখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিনহাজ আহমেদ জানান, ‘তিনি শুনেছেন, ওই কিশোর ব্লু হোয়েল গেমস খেলতে খেলতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে তার হাতে কোনো ট্যাটু আঁকা নেই কেবল বাঁ হাতে কাটা দাগ আছে।’

এদিকে শরীরের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে কিশোরটি বলে, ‘এখন একটু অসুস্থ বোধ করছি। আম্মুকে বলেছিলাম, এখানে আনলে আমি ভালো হবো না। তাও আমাকে নিয়ে এসেছে।’

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর এবার বাংলাদেশে হানা দিলো মরণঘাতি ব্লু হোয়েল গেম। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর এই গেমের বলি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী। রাশিয়ার এক তরুণ মরণঘাতি এই গেমসটি তৈরি করেন।  ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইন্টারনেটে ‘মরণ নেশার’ এ গেম খেলে সারা বিশ্বে ১৩০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে এই গেমসটির  জনপ্রিয়তা বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে। এমনকি গত দু’মাস ধরে ভারতজুড়ে চলছে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক। কিন্তু অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম এমন ঘটনা শোনা গেলো। এর পর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কমেন্টস