ধর্ষণের পর ভিডিও প্রকাশের ভয়ে কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের পর ভিডিও প্রকাশের ভয়ে রহিমা আক্তার সোনিয়া নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের কালারাম জোত গ্রামেএ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের পর মনসুর আলী রাজন ও আতিকুর রহমান আতিক নামের দুই স্থানীয় যুবক ইন্টারনেটে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারের ভয় দেখানোয় গত মঙ্গলবার কোচিংয়ে যাওয়ার সময় অর্ধেক রাস্তা থেকে বাসায় ফিরে এসে ঘরের সড়ের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সোনিয়া।

রাজন হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়) চাকরি করে এবং আতিক স্থানীয় বাজারে ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসা ও বাংলালিংকের কাস্টমার কেয়ারে কাজ করে বলে জানা যায়।

ওই রাতেই ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশও মামলা রেকর্ড করেননি।

সোনিয়ার মামা ফারুক জানান, সোনিয়া তার অসুস্থ মায়ের জন্য প্রায় ৩ মাস আগে ওষুধ কিনতে বাজারে যাচ্ছিল। এ সময় সহায়তার কথা বরে রাজন মোটরসাইকেলে তুলে তাকে উপজেলা সদরে আতিকের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে রাজন তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় আতিক মোবাইল ফোনে তা ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আতিক ধর্ষণ করে। এরপর ওই দুজনই অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করা ও মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ করে আসছিল।

‘এরপর গত সোমবার সোনিয়া ঘটনাটি আমাকে ও তার মা সেলিনা বেগমকে জানায়। পরে আমরা রাজন ও আতিকের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে কোচিং করতে যাওয়ার সময় সোনিয়াকে তারা আবার একই হুমকি দেয়। ওইদিনই বাসায় ফিরে সোনিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রতিবেশি রওশনারা বেগম জানান, ১৪ বছরের শিশুকে তারা ফুসলিয়ে বিপদে ফেলেছে। আমারও মেয়ে আছে। তারা আরও কোন শিশুকে এমন করতে পারে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

তেতুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেনি। যারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই। মেয়েটা চলে গেছে, কিন্তু উপযুক্ত বিচার পেলে দেশে আইন আছে বিচার আছে এ শান্তনাটুকু নিয়ে বাঁচতে পারবো।

তেতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, রাজন ও আতিক ব্ল্যাক মেইল করে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছে। সোনিয়া সে পথ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বার বার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে। পুলিশ এ ঘটনায় ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সোনিয়ার বাবা জাহেরুল ইসলাম পাথর শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। তিনি জানান, বুধবার রাতে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে রাজন ও আতিকের নামে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। আসামিও ধরেনি।

সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেস চন্দ্র। তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে যদি কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে যথাযথভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

কমেন্টস