ব্লু-হোয়েলের ফাঁদে চবি, আরও ৪ আসক্ত শিক্ষার্থীর সন্ধান

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বর্তমানে আতঙ্কের আরেক নাম ব্লু-হোয়েলে গেম। ভয়ঙ্কর এই সুইসাইড গেমের বিভিন্ন ধরনে ধাপে রয়েছে এমন আরও ৪ শিক্ষার্থীর খোঁজ মিলেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও আসক্ত শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক চবি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ব্লু-হোয়েল গেমে আসক্ত হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মসিউদ্দৌলা রেজা। আসক্ত শিক্ষার্থীদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হলেও মুখ খুলছে না কেউ।

এ প্রসঙ্গে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টার ড. কামরুল হুদা বলেন, ব্লু-হোয়েল একটি সুসাইড গেম। নাম প্রকাশ করলে সহপাঠিরাও এই সুসাইড গেম সম্পর্কে জানতে কৌতুহলী হয়ে আসক্ত শিক্ষার্থীদের কাছে যাবে।

তিনি জানান, ব্লু-হোয়েল গেমে আসক্ত  আরও ৪ শিক্ষার্থীর সন্ধান মিলেছে। তবে দের নাম কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার সরজমিনে দেখা যায়, চবি ক্যাম্পাসে ঘুরাফেরার সময় এক শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীকে বলছে-এই তুই কত ধাপে আছিস’। আবার কোন কোন শিক্ষার্থী তার দিকে তাকানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন- এই আমার দিকে তাকালি কেন?

ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, ব্লু-হোয়েলে আসক্ত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার আগে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মুখে এ বিষয়ে শুনেছি। এরা তখন কে কত ধাপে ছিল-তা বলাবলি করত। তবে তাদের কেউ এখনো বিপদজ্জনক পরিস্থিতিতে যায়নি বলে মনে হয়।

তিনি আরো বেলেন, ব্লু-হোয়েলে আসক্ত শিক্ষার্থীকে জেল হাজতে নেয়ার পর অন্যান্ন আসক্তরা এখন নিজেদের আড়াল করছেন।

এ ব্যাপারে চবি’র শাহ আমানত হলের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন বাবরের সাথে কথা হলে তিনি বেলেন, এ গেম আমিও চার ধাপ পর্যন্ত খেলেছি। তবে সতর্কভাবে। গেমের এডমিনরা আমাকে যা করতে বলেছে তা না করে উত্তর দেওয়ায় আমাকে নট এলাউড করেছে।

সোহরাওয়ার্দী হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন,গেমটি আমি ১৩ ধাপ পর্যন্ত খেলেছি। প্রতিটি ধাপে অনুভুতি যাচাই করে সঠিক উত্তর পেলেই পরবর্তী ধাপ খেলা যায়। এ গেমের প্রতিটি ধাপই বিপদজ্জনক যার শেষ পরিনতি আত্মহত্যা।

ব্লু-হোয়েল গেম খেলেছেন এমন কয়েক জিন শিক্ষার্থী অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, এ গেমে যারা আসক্ত তারা অন্যমনস্ক। ধাপগুলোতে হাত-পা কাটার মতো বিপজ্জনক কাজও আছে। শুধু কাজ করলেই হয় না। উপযুক্ত প্রমাণ হিসাবে ছবিও তুলতে হয়। তবেই চ্যালেঞ্জ পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হবে।

কমেন্টস