৪ বছরেও সম্পূর্ণরূপে চালু হয়নি সোনাহাট স্থল বন্দর

প্রকাশঃ অক্টোবর ১১, ২০১৭

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

১৯৪৭ সালে বন্ধ হওয়া কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথম পণ্য প্রবেশ করে। পুনরায় স্থল বন্দরটি চালু হওয়ার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ রুপে এখনও এ বন্দরের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম।

অথচ স্থল বন্দরটি সম্পূর্ণরুপে কার্যক্রম শুরু হলে বদলে দিতে পারে উত্তরের অবহেলিত কুড়িগ্রাম জেলার অথনৈতিক চিত্র। স্থলবন্দরটি চালু হলে কয়লা ও চুনাপাথর ভিত্তিক শিল্প কল কারখানা গড়ে উঠবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সাবলম্বী হবে গোটা জেলা ,লাভবান হবে গোটা দেশ। স্থলবন্দর স্থাপন করার সকল সুবিধা বিদ্যমান থাকায় গোটা জেলার ২২ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছিল স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠিত হবার ৪ বছরে এসে জেলার মানুষের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে।

সকল সুযোগ সুবিধা ও অবকাঠামো নির্মাণের পরেও ভারত থেকে শুধুমাত্র ২ টি পণ্য আসা এবং ভারতে বাংলাদেশের কোন পণ্য রপ্তানী করতে না পারা এ ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়ন হিসেবে দেখছে আমদানি রপ্তানী কারকরা। বসেই সাথে সড়কের বেহাল দশা আর শত বছর আগে পরিত্যক্ত রেলওয়ের একটি ব্রীজ এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দেখা দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহল।

জেলা শহর থেকে ৫৫ কিঃ মিঃ দুরে অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দরটি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বানরকুটি মৌজায় অবস্থিত। অপরদিকে রয়েছে আসামের ধুবড়ী জেলার গোলকগঞ্জ থানা। ব্রিটিশ আমলে সোনাহাট ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের আসাম, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, অরুনাচল ও মেঘালয় রাজ্যের একমাত্র প্রবেশ দ্বার। সে সময় এ পথে আমদানি- রপ্তানী হতো। এখান দিয়ে তৈরী করা হয় আসাম-বেঙ্গল এক্সপ্রেস রোড, ও আসাম-বেঙ্গল রেলপথ। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর থেকে এ পথগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

আসাম তথা ভারতের পূর্বাঞ্চলের ৭টি রাজ্য থেকে উত্তরবঙ্গে পণ্য আমদানি করতে গেলে ৩৫০ কিঃ মিঃ পথ অতিক্রম করে পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আসতে হয়। এতে প্রতি মেঃ টঃ কয়লা আমদানিতে ৩’শ রুপি অতিরিক্ত আমদানি খরচ পড়ে।

অবহেলিত কুড়িগ্রামের উন্নয়নে সোনাহাট স্থলবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল মহাজোট সরকারের। তাই মহাজোট সরকার পুনরায় এই স্থলবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৪ সালে চালু করে।

ভারত থেকে চাল, গম, ভুট্টা, তাজা ফল, ডাল, আদা, রসুন, পিয়াজ, পাথর, কয়লা এই ১০টি পণ্য আমদানী। বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধ পণ্য বাদে সব পণ্য রপ্তানীর সিদ্ধান্ত থাকলেও বাংলাদেশ থেকে একটি পণ্য ওপারে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। তেমনি ভারত থেকে শুধুমাত্র পাথর ও কয়লা আসায় সীমিত পরিসরে চলছে বন্দরের কার্যক্রম। এ বন্দরে পাথরভাঙ্গা ক্রাশার মেশিন রয়েছে ২০০টি আর শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। ১৪ একর ৬৮ শতক জমি অধিগ্রহন, দেয়াল নির্মাণ, ওয়্যার হাউজ নির্মাণ এর কাজে ৪৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় হচ্ছে এই বন্দরের উন্নয়নে।

অন্যদিকে ২০০ জন আমদানি কারক বিগতদিনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে। রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে বাইরের ট্রাক কম আসায় স্থল বন্দরের কার্যক্রম খুব স্বল্প পরিসরে চলায় শ্রমিকদের রোজগার কমে গেছে। আগে সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০ টি ট্রাক আসলেও এখন ৭০ থেকে ৭৫ টি আসছে। ফলে লোড আনলোড শ্রমিকদের কাজ অনেক কমে গেছে বলে জানান কর্মরত শ্রমিকরা।

সোনাহাট স্থলবন্দর এর কার্যক্রম সম্পূর্ণরুপে চালু হলে কয়লাভিত্তিক শিল্পকল কারখানা এবং চুনাপাথর ভিত্তিক সিমেন্ট কারখানা গড়ে উঠলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এ আশায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন এলাকাবাসী। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন জায়গা জমি সবকিছু বন্দরের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য দিলেও এখনও তাদের স্বপ্ন পূরন হয়নি।

সোনাহাট স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল জানান, ভারত থেকে স্বল্প পরিসরে ২ টি পণ্য আসলেও বাংলাদেশ থেকে একটি পণ্যও ভারতে প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে দেখভাল করা সহ আমদানি ও রপ্তানী উভয় দিক বজায় রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া সড়কের উন্নয়ন এবং একটি সড়ক সেতু নির্মাণ হলে সোনাহাট বন্দরের কার্যক্রমে সারাদেশের সঙ্গে বাড়বে বলে মনে করছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীরা।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দর এর অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়কের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে সেইসাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিকল্প ব্রীজ খুব তাড়াতাড়ি নির্মাণ করবে যা একনেক এর সভায় অনুমোদন হয়েছে।

Advertisement

কমেন্টস