যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশঃ অক্টোবর ৮, ২০১৭

হাবিব সরোয়ার, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি-

সুনামগঞ্জের ছাতকে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় খাদিজা বেগম (২৩) নামের ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্বহত্যা বলে ঘটনা ধামাচাঁপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বেরাজপুর গ্রামের তাজ উদ্দিনের স্ত্রী।

জানা গেছে, উপজেলার বাহাদুরপুর(আফজলপুর) গ্রামের আলীম উদ্দিনের মেয়ে খাদিজা বেগমকে ২বছর পুর্বে বেরাজপুরের ময়না মিয়ার ছেলে তাজ উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে  তাজ উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন খাদিজার উপর যৌতুকের জন্যে প্রায়শই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে খাদিজা তার পিতার নিকট থেকে একাধিকবার নগদ টাকা এনে স্বামী তাজ উদ্দিনকে দিলেও তাতে লোভের পরিমাণ দিন দিন বাড়তেই থাকে। গত ৬ অক্টোবর আবারো লেগুনা গাড়ি কেনার অজুহাতে পিতার কাছ থেকে ৫লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য খাদিজার ওপর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বেধরকভাবে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে চিকিৎসার নামে মৃত খাদিজাকে রাত ১১টায় নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের মেঝেতে খাদিজার লাশ রেখে স্বামী তাজ উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরদিন খাদিজার চাচা আতিকুর রহমান সহ অন্যান্য স্বজনরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে পিতার বাড়ি আফজলপুর গ্রামে এনে খাদিজার লাশ দাফন করা হয়।

নিহত খাদিজার পিতা আলীম উদ্দিন অভিযোগ করে বললেন, ‘যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় আমার মেয়েকে তার শশুর বাড়ির লোকজন বেধরকভাবে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাঁপা দিতে পরে মুখে বিষ ঢেলে আত্বহত্যা বলে চালিয়ে দেয়াার অপচেষ্টা করেছে। মৃত খাদিজার লাশ হাসপাতালের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন। এতেই বোঝা যায় তারা আমার মেয়ের হত্যার ঘটনা ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে নিহত খাদিজার স্বামী তাজ উদ্দিনের পরিবারের লোকজন জানায়, ‘বয়োবৃদ্ধ শাশুড়ির সাথে ঘটনার দিন ঝগড়া করে অভিমানে খাদিজা বিষপান করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে পিটিয়ে কিংবা মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন পরিবারের লোকজন।

ছাতক থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘খাদিজা বিষপান করে আত্বহত্যা করেছে বলে প্রাতমিকভাবে জানতে পেরেছি। এ নিয়ে তার পিতার পক্ষ থেকে রবিবার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কমেন্টস