বৈদ্যুতিক খুঁটির দখলে রাস্তা, ভোগান্তিতে পথচারীরা

প্রকাশঃ অক্টোবর ৮, ২০১৭

বিক্রমজিত বর্ধন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি-

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডস্থ ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভৈরব থলী থেকে সকিনা সিএনজি পাম্প পর্যন্ত আধা কিলোমিটার রাস্তার পাশে এলোপাথারিভাবে রাখা হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। অপরিকল্পিত ব্যবস্থার জন্য বিঘ্নিত হচ্ছে যানবাহন চলাচল ও ভোগান্তি পোহাচ্ছে পথচারীরা।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার অর্ধেক অংশ দখল করে ক্রেন ব্যবহার করে এসব খুঁটি কখনো তুলা হচ্ছে গাড়িতে আবার কখনো গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে। বেশ কিছু দিন থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে এখানকার নিত্যদিনের কার্যকলাপ। এর ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন চালকরা।

সড়কের এই অংশটুকু এমনিতেই দুর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। তারপর রাস্তার উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি উঠা নামানোর কাজ চলার কারণে প্রতিনিয়ত ট্রাফিক জ্যাম ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে দুরপাল্লার যানবাহন, এলাকায় চলাচলরত সিএনজিচালিত অটো রিকশা, ট্যাক্সি, রিকশা ও পথচারীরা।

হবিগঞ্জ-সিলেট মটর মালিক সমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ আব্দুস সালাম এই ব্যাপারে জানান, ‘চালকরা এই ব্যাপারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর কাজের সুপার ভাইজার ও কর্মীদের মৌখিকভাবে অবহিত করেন। কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের বাসের সিডিউল বিলম্বিত হচ্ছে এবং তাদেরকে দিতে হচ্ছে বিলম্ব মাশুল। শুধু তাই নয় চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চালাচ্ছেন যানবাহন। যেকোন সময় বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এখানে।’

সিএনজিচালিত অটো রিকশার এক চালক জানান, ‘দিনে কয়েকবার এই জায়গায় গিয়ে জ্যামে পড়তে হয়। সিএনজি চালানোর সময় রাস্তার পাশে ক্রেন ও লরির কারণে রাস্তার সামনের জায়গা দেখা যায় না ফলে হুট করে বড় গাড়ি চলে আসে। এতে মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও কিছুদিন আগেও তাদের দুইটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই জায়গায় দুর্ঘটনায় উল্টে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শিবুলাল বসু মুঠোফোনে জানান, ‘বৈদ্যুতিক খুুঁটিগুলো বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে এবং এই কাজ শেষ করতে প্রায় ২-৩ মাসের মতো সময় লাগতে পারে।’

যানবাহনের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খুঁটি সড়ানোর কাজ মূলত জনস্বার্থেই করা হচ্ছে, সরকার খুঁটি পাঠাচ্ছে আমরা তা কাজে লাগাচ্ছি , কিছুটা ভোগান্তি হতেই পারে।’

কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে রাস্তার পাশের এসব খুঁটি, ক্রেন ও লরিগুলো রাস্তা থেকে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে রেখে কাজ করলে দুর্ঘটনা ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি দূর হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

কমেন্টস