শুটকি ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক

প্রকাশঃ অক্টোবর ৮, ২০১৭

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি-

মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে এ বছর স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার পানি নামার সাথে সাথে জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে দেশি প্রজাতির নানা ধরনের মাছ। শুটকি ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। এর সাথে সাখে শুটকি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আত্রাইয়ের শুটকি ব্যবসায়ীরা। এলাকা জুড়ে এখন চলছে নানা ধরনের মাছের শুটকি তৈরি ধুম।

গত কয়েক বছরে শুটকি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার তা পুষিয়ে নিতে তারা কোমর বেঁধে শুটকি তৈরিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

এবার বন্যায় এলাকার শত শত চাষকৃত মাছের পুকুর ডুবে যাওয়ায় নদীতে দেশি মাছের বিচরণ অনেক বেড়ে গেছে। তাই জেলেরা নদীতে উৎসাহ নিয়েই মাছ ধরছেন। ধরাও পড়ছে দেশিয় প্রজাতির বিভিন্ন রকম মাছ। আর এ মাছগুলো প্রতিদিন ভোর থেকে বিক্রি হচ্ছে আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন টোলমুক্ত ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজার আড়তে। এলাকার ব্যবসায়ীরা দেশি মাছ বিশেষ করে পুঁটি, রাইখোর, চাঁন্দা, শোল, টাকি, বোয়াল মাছ দিয়ে শুটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা থেকে রেল, সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন শতশত টন মাছ বাজারজাত করা হয়। রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নিলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁসহ দেশের প্রায় ১৮/২০টি জেলায় বাজারজাত হয় ঐতিহ্যবাহী খ্যাতি সম্পন্ন আত্রাইয়ের শুটকি মাছ। আর এ মাছের শুটকি তৈরি করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছে আত্রাইয়ের শুটকি ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত। শুধু বর্ষা মৌসুমে শুটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হতো। আর এ অর্থ দিয়ে তারা পরিবারের সারা বছরের ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতো। কিন্তু গত বছর বাজার মন্দা থাকায় এসব ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।। কাঁচা মাছের আমদানী কম, বাজারে মূল্য বেশি থাকায় শুটকির বাজারে নেমেছিল ধস। সব কিছু মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের গত বছর লাভের পরিবর্তে গুণতে হয়েছিল লোকসান। বর্তমানে মাছের ব্যাপক আমদানি, মূল্য কম এবং শুটকির বাজার মূল্য বেশি থাকায় ব্যবসায়ীদের চোখে- মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের উচ্ছাস।

ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী শ্রী রামপদ শীলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘গত বছর প্রতি চালানেই আমাদের লোকসান গুণতে হয়েছিল। শুটকি তৈরির আসল টাকাই উঠে আসেনি। এ বছর কাঁচা মাছের চাহিদা বেশি, দাম কম থাকায় শুটকিতে লাভ ভালো হবে বলে আশা করছি।’

শুটকি ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জানান, ‘পরিবার- পরিজন নিয়ে শুটকি তৈরি করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুটকির চাহিদা আছে। তিন মন মাছ শুকালে এক মনের মতো শুটকি তৈরি হয়। মাছ শুকানো মানেই মানুষ শুকানো। এটা খুব কষ্টের কাজ। তবে লাভ ভালো হলে সব কষ্ট লাঘব হবে।

কমেন্টস