যুবককে বেঁধে নির্যাতন, বাধা দেওয়ায় গর্ভবতী মহিলার পেটে লাথি মেরে সন্তানকে হত্যা

প্রকাশঃ অক্টোবর ১, ২০১৭

মো. সবুজ খানঃ

জামালপুরের মেলান্দহ থানার নয়ানগর ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সুজন নামের এক যুবককে খুটির সাথে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে আশরাফ, তার দুই ছেলে ও ভাতিজা। এসময় সুহিরণ নামের ৫ মাসের গর্ভবতী এক মহিলা নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে এলে আশরাফ মহিলার পেটে লাথি মারলে গর্ভে থাকা বাচ্চাটি মারা য়ায়।

গত বৃহস্পতিবার জামালপুরের নয়ানগর ইউনিয়নের মালঞ্চ গ্রামের কাচারী পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এলাকার চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন জানান, পূর্বের শত্রুতার জের ধরে আশরাফ তার ছেলেদের নিয়ে সুজনের বাড়িতে আক্রমণ করে সুজনের বাড়িঘর ভেঙ্গে দেয়। সুজনকে রড দিয়ে অমানবিক পিটিয়েছে। এ সময় পাশের বাড়ির এক মেয়ে বাধা দিলে তাকেও পেটায় আশরাফ।

এলাকার মেম্বর বাবর আলী জানায়, বেশ আগে থেকেই তাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ। পুরনো দ্বন্দের জের ধরে আশরাফ তার লোকজন সাথে নিয়ে সুজনের বাড়িতে যায় সুজনকে মারতে। সুজন ভয়ে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে তারা দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে তাকে পেটায়। সেখানে মার খেয়ে কোনরকমে দৌড়ে শফিকুল নামের এক লোকের বাড়িতে যায় সুজন। আশরাফ সুজনকে মারতে শফিকুলের বাড়িতেও যায়। সেখানে শফিকুলসহ তার মেয়ে বাধা দিলে আশরাফ শফিকুলের মেয়ের পেটে লাথি মারে। আশরাফের লাথির কারণে মেয়েটির পেটে থাকা ৫ মাসের বাচ্চাটি মারা যায়।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত দুদিন আগে সুজনের বাড়িতে ৭-৮ জন গিয়ে হামলা করে। এরপর আশেপাশের লোকেরা বাঁধা দিলে বাড়ি ভাংচুর করে তারা। ঘটনাস্থানে একজনের হাতে কোপ দেয়, সুহিরণ নামে এক গর্ভবতী মেয়েকে পেটে লাথি মেরে তার পেটের বাচ্চা মেরে ফেলে।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, মারামারির ঘটনা শেষে সুজন বাজারে গেলে সেখানে আশরাফরা বাজারে আবার আটকায় সুজনকে। আটকিয়ে ভ্যান গাড়ি, গাছ ও সিমেন্টের খুঁটির সাথে বেঁধে প্রচুর মারধর করে সুজনকে।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল করিম জানায়, সুহিরণ নামের যে মেয়েকে পেটে লাথি মেরে বাচ্চা নষ্ট করা হয়েছে তার পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। সুহিরণের সার্জারি করা হয়েছে। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘটনার মূল অভিযুক্ত আশরাফ আলীকে ফোন করা হলে সে রং নাম্বার বলে বার বার ফোনের লাইনটি কেটে দেয়।

কমেন্টস