‘ভাগ্য হয়তো আমাকে অনেক ওপরে নিয়ে যাবে, কিন্তু মার্কশিটে তো ৩৩ নম্বরই থেকে যাবে’

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

চলতি বছরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির ফলাফলে ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল বিপর্যয় শিক্ষাসচেতন সকলকেই ভাবিয়ে তুলেছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মানসম্মত উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে। মানসম্মত পরীক্ষক দিয়ে যদি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা না হয় তবে এর খেসারত দিতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। তারই একটি নমুনা ভাইরাল হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া এক ছাত্রীর বাবা রতন কুমার মজুমদার এর ফেসবুক পোস্ট।

রতন কুমার মজুমদার পেশায় একজন শিক্ষক। চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তিনি।

বিডিমর্নিং-এর পাঠকদের জন্য ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলঃ

”আমার মেয়েটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে চান্স পেল। কুমিল্লা বোর্ডের ইংরেজি পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণে তার ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তা কাটিয়ে উঠে সে আবার নিজেকেই প্রমাণ করল।

ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্য পড়বে। নিজেকে তৈরিও করেছিল সেভাবে। কিন্তু এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনা তাকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ৮০, প্রথম পত্রে ৩৩ নম্বর। কী পরিমাণ আন্ডারমার্কিং হলে এমনটা হতে পারে আমার বোধগম্য নয়। যেহেতু পুনঃপরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই তাই পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনার কাছে তাকে হার মানতে হলো। সে দিনই সে বলেছিল, এর জবাব আমি দেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে। সে তা-ই করে দেখাল। ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ২৫ নম্বরে সে পেয়েছে ২১ নম্বর। সে দিন এই মেয়েটি হতবাক করার মতো রেজাল্ট (৩৩ নম্বর) দেখে কষ্টের হাসি দিয়ে বলেছিল, ‘স্যার আমি এর জবাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দেব। যদি পুনঃপরীক্ষার সুযোগ থাকত তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি ৮০ পাব। তো যাই হোক, আমি তো পাস করেছি। আমার অনেক সহপাঠী তো ইংরেজি প্রথম পত্রে ফেল করেছে। তাদের জীবন থেকে তো একটি বছর চলে গেল পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনার কারণে।’

সে দিন সে আরো বলেছিল, ‘আমি হয়তো বিসিএস দেব, ভাগ্য হয়তো আমাকে অনেক ওপরে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমার মার্কশিটে তো ৩৩ নম্বর থেকে যাবে। এটি তো আমার জন্যে অনেক কষ্টের, বেদনার। আর কোনো শিক্ষার্থীর ভাগ্যে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে কোনো পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনার কারণে।’

এ মেয়েটির অভিভাবক হিসেবে কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে, এ রকম অপদার্থ, অযোগ্য, মস্তিষ্কবিকৃত ইংরেজি শিক্ষককে যেন আর পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক করা না হয়। সারা জীবনের একজন ছাত্রছাত্রীর প্রচেষ্টা এই সমস্ত অযোগ্য ইংরেজি শিক্ষকের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে। (ইংরেজি শিক্ষকদের সাতকাহন পরে লিখব)।

তার জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হলো। কোলে পিঠে করে ওকে গড়ে তুলেছি। পুজোর সময় জন্ম বলে তার নাম রেখেছিলাম পূজা।”

ইংরেজিতে ৩৩ নম্বর পেয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া পূজার বাবার এই ফেসবুক পোস্টটি ইতিমধ্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

এমন যদি হয় পরীক্ষকের মান, তবে অনেক ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন অংকুরেই শেষ হয়ে যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এর দায় কি এড়াতে পারে?

এদিকে রতন কুমারের দেওয়া এই ফেসবুক পোস্টটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এবং তিনি কী বলতে চাইছেন, তা বেশ স্পষ্ট করেই বলেছেন এই ফেসবুক পোস্টে।

 

Advertisement

কমেন্টস