কক্সবাজারের উখিয়াতে দারুণ সাড়া ফেলেছে ‘ক্যাম্পেইন রেড’

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

তামান্না ইয়াসমিন, এইউডব্লিউ প্রতিনিধি-

চলুন সবাই একটু চিন্তা করি, একটা মেয়ে তার জীবনের ৮-৯ বছর পিরিয়ডের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে। ২০০৯ সালে প্রকাশিত ইউনসেফের একটি রিপোর্টে দেখানো হয়, যে সকল দেশে পিরিয়ড নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ বিবেচনা করা হয় সেখানে বয়ঃসন্ধিকালে প্রায় ২০ শতাংশ মেয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে এখনো মাসিকের বিষয়টি অকথ্য মনে করা হয়। পিরিয়ড সম্পর্কিত বেশিরভাগ তথ্যই কুসংস্কার এবং অন্ধ বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে চলে আসছে। বাংলাদেশে খুবই কম মেয়ে আছে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পরিবারের সাথে পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনা করে।

আমরা অনেক মেয়েরা নিজেরা পিরিয়ডকালীন পরিচ্ছন্নতা ও খাবার দাবার নিয়ে বেশ সচেতন কিন্তু আরেকজনকে জানানোর প্রয়োজন মনে করি না আর এই সমস্যা সমাধানে আবির্ভাব ঘটে ক্যাম্পেইন রেড এর। যারা ইতোমধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মাঝে পিরিয়ডকালীন পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত সচেতনতার কাজ শেষ করেছে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা তিনজন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) থেকে ২০১৬ সালের ইয়ুথ লিডারশীপ পুরস্কার অর্জন করেন।

ফারজানা আহমেদ, রুবিনা আক্তার এবং রিমু বৈদ্য ৯৫০০ ইউএস ডলারে (প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা) পুরস্কৃত হন যাতে এই অর্থ দিয়ে তারা প্রজেক্ট ক্যাম্পেইন রেড সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার স্কুলগামী ছেলে ও মেয়েদের মাঝে পিরিয়ড সংক্রান্ত সচেতনতার কাজ করছে ক্যাম্পেইন রেড। পিরিয়ড অসুস্থতা কিংবা লজ্জার কোন বিষয় নয় বরং এটির মাধ্যমে একজন নারী সুস্থতা ও পূর্ণতা পায়। তাই বয়ঃসন্ধিকালে কোন নারী যেন সমাজে পিছিয়ে না থাকে সেটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে ক্যাম্পেইন রেড। এখানে রেড দ্বারা শুধু রক্তের লাল রঙ না বরং “রেয়েলাইজিং এমপাওয়ারমেন্ট ফর ডিগনেটি” (মর্যাদার জন্য ক্ষমতায়ন) বুঝানো হয়েছে।

ক্যাম্পেইন রেড এর সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, উখিয়াতে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবর্তন হয়েছে ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গির। কেননা ক্যাম্পেইন রেড বিশ্বাস করে সুস্থ পরিবার, ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারীর পাশাপাশি পিরিয়ড এর ব্যাপারে পুরুষদেরও জানা প্রয়োজন। এই ক্যাম্পেইনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমি, ইউএসটিসি, আইআইইউসিসহ অনন্যা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিশ্ববিদ্যালয়গামী ৫০ জন সেচ্ছাসেবী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ভলান্টিয়াররা কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে থাকে।

Advertisement

কমেন্টস