‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে প্রাইভেট পড়ালেই শাস্তি’

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি-

বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন বলেছেন, ‘আমার স্কুলের কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকেন, তাহলে আমি তাদের ধিক্কার জানাচ্ছি এবং আমি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিচ্ছি, আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক এ রকম কোনো কোচিংয়ের সাথে জড়িত হবে না। যদি আপনারা হয়ে থাকেন, তাহলে আজকে তওবা করেন, আর ভবিষ্যতে এ কাজ করবেন না। শিক্ষকের নৈতিকতার ব্যাপারে আমরা যেন আপোষহীন থাকি। যদি কখনো আপোষ করে থাকেন, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের আরো বলেন, ‘পঞ্চম, অষ্টম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্যে প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই অতিরিক্ত ক্লাস বা কোচিং ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন থেকে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কোচিং ক্লাসের ফি নেওয়া হবে। পাবলিক পরীক্ষার পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থী বা অভিভাবকরা যদি চান, তাহলে তাদের জন্যেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে কোনো শিক্ষক সরকারি নীতিমালা অমান্য করে বাইরে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের আর্থিক সামর্থ্য কম, তাঁরা আবেদন করলে কোচিং ফিও মওকুফ করা হবে। এছাড়া শীঘ্রই শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম মূল্যায়ন করার জন্যে মান যাচাই ফরম চালু করা হবে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষকদের কোন কোন বিষয় ভালো, কোন বিষয় ভালো নয় সে ব্যাপারে মন্তব্য বা পরামর্শ দিতে পারবে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষকের পদোন্নতি, বেতনবৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানো বা কমানো হবে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা সন্তানদেরকে পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছেন না। যার কারণে আপনার সন্তান লেখাপড়ায় যেটুকু সময় দেওয়া দরকার সেটুকু দিচ্ছে না। আপনার এই অপারগতার কারণে সন্তান হয়তো কোচিংয়ের দিকে চলে যাচ্ছে। কারণ তার টাইম পাস করা দরকার। আপনার সন্তান কোচিং বা প্রাইভেটের নামে যেটুকু সময় বাইরে থাকছে, সে তার সময়টার সদ্ব্যবহার করছে কিনা এটা অভিভাবকদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকরা ভাইয়েরা যে কাজটি করেছেন, তাঁরা মহৎ কাজ করেছেন। অনিয়মগুলোকে তারা তুলে ধরেছেন। আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

এ সময় অভিভাবকরা ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল দিলীপ কুমার রায় এর সভাপতিত্বে সমাবেশটিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শফিকুর রহমান ও কাজল কান্তি দাশ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষীপদ দাশ ও মোজাম্মেল হক বাহাদুর, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এবং শতাধিক অভিভাবকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বান্দরবান জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত কোচিং ফি আদায় এবং কিছু শিক্ষকের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গণহারে প্রাইভেট বাণিজ্য নিয়ে পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এ ব্যাপারে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নের কঠোর নির্দেশ দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর।

জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় দোষীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। এরপর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোচিং সাময়িক বন্ধ রাখে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। ১৬ সেপ্টেম্বর অভিভাবক সমাবেশে সবার মতামতের ভিত্তিতে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংশোধিত ফি আদায়ের মাধ্যমে আবারো কোচিং ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালায় জেলা পর্যায়ে কোচিং ফি প্রতি বিষয়ে ২শ’ টাকা এবং সব বিষয় মিলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২শ’ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

কমেন্টস