চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে বিচারক সংকট

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

তারেক আজিজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও দেওয়ানী আদালতে বিচারক সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে বিচার কার্যক্রম। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবিদের মাঝে বাড়ছে হতাশা। হয়ারানি ও ভোগান্তির শিকার বিচারপ্রার্থীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে আইনজীবিরা। বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সম্প্রতি ২১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সর্বাধুনিক চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন। তবে বিচারক সংকটের কারণে কাঙ্খিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

জানা যায়, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনুমোদিত বিচারক সংখ্যা ৯ জন। তবে অত্র আদালতে বর্তমানে মাত্র ৪ জন বিচারক রয়েছেন। ৪ জন বিচারক দিয়েই চলছে ৯টি আদালতে বিচারিক কার্যক্রম।

চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, ‘৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ জন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদ শূন্য রয়েছে। তবে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই যোগদান করবেন পদশূন্য থাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ‘বিচারক সংকটের কারণে গতকাল রবিবার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একই কার্যদিবসে ২টি আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা করেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদিব আলী। অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালাম নিজ আদালতের পাশাপাশি আমলী আদালত ‘ক’-অঞ্চল পরিচালনা করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল ইসলাম নিজ আদালতের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ১ম ও ২য়, আমলী আদালত ‘গ’ ও ‘ঘ’ একই কার্যদিবসে ৫টি আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহীদুল ইসলাম নিজ আদালতের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ৩য় ও ৪র্থ একই সাথে আমলী আদালত ‘খ’-অঞ্চলের বিচারিক কাজ পরিচালনা করেন।’

এদিকে, দেওয়ানী আদালতেও রয়েছে বিচারক সংকট। দীর্ঘদিন যাবৎ এ আদালতেও অনুমোদিত বিচারক সংখ্যা পূরণ হয়নি। কোন না কোন আদালত বিচারক শূন্য থাকেই। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আদালত (দেওয়ানী) বিচারক শূন্য রয়েছে। গত ৩১ জুলাই সদর আদালতের বিচারক মোঃ খোরশেদ আলম বদলী হওয়ার পর থেকেই বিচারক শূন্য রয়েছে এ আদালতটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, ‘গোমস্তাপুর আদালতের বিচারক মোঃ নাজমুল হোসেন ২৪ মে ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণে যান। এর পর থেকে এ আদালতের কার্যক্রম চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের মাধ্যমে। বেশকিছুদিন বিচারক শূন্য থাকার পর ২৪ এপ্রিল ভোলাহাট আদালতে যোগদান করেন সোনালী রানী উপাধ্যায়, ১৩ আগস্ট নাচোল আদালতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইসমত আরা তুশি। বিচারক শূন্য থাকায় শিবগঞ্জ আদালতের দায়িত্বরত বিচারক নাদিরা সুলতানা নিজ আদালতের পাশাপাশি সদর ও গোমস্তাপুর আদালতের বিচার কার্য পরিচালনা করছেন।’

জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নজরুল ইসলাম ও আইনজীবি সমিতির সদস্য এ্যাড. তসিকুল ইসলাম জানান, বিচারক সংকটের কারনে হতাশাগ্রস্ত বিচার প্রার্থীদের শান্তনা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া কোন বিচারক কোন অঞ্চলের ফাইল দেখবেন এটি নিয়েও জটিলতা বাড়ে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারিক কাজ শেষ না হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে বিচারপ্রার্থীরা সাথে সাথে আমাদেরও অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন কারণে আইজীবি ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ দেখা দেয়।’

কমেন্টস