সীমান্তে খোলা আকাশের নিচে শতাধিক রোহিঙ্গা নারীর সন্তান প্রসব

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

২৫ আগস্টের পর থেকে গত ১৮ দিনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে শতাধিক রোহিঙ্গা নারী সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সূত্র।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ওপারে কুয়ানচিবং এলাকায় মিয়ানমারের টংবাজার এলাকার বাসিন্দা নাছির মোহাম্মদ (৪০)। রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সহিংসতার পর ছয় দিন হেঁটে স্ত্রী হাছিনা বেগমকে নিয়ে (৩৫) আশ্রয় নেন উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়ার নাফ নদীর পাড়ে। নাফ নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে ১০ সেপ্টেম্বর একটি সন্তান প্রসব করেন তিনি।

একদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার বেদনা, অপরদিকে সন্তান প্রসব যন্ত্রণা। উভয়ের মাঝে অসহায়-অস্থির হাছিনা বেগম। পাশে ছিলেন স্বামী আর জ্যা মর্জিনা বেগম। তাদের সহযোগিতা নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ ভূখণ্ডের নাফের কাদামাটিতে সন্তান প্রসব করেন হাছিনা।

স্বামী-স্ত্রী দুজনই একমত হয়ে বলেন, মুসলমানদের ওপর জুলুম, নির্যাতনের মাসে সন্তানের জন্ম হওয়ায় নাম রাখব জিহাদ হোসেন।

মিয়ানমার থেকে স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে অজানা গন্তব্যে পা বাড়ান নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা জনৈক নূর বিবি। অবশেষে পাহাড়-জঙ্গল ডিঙিয়ে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের উখিয়ার বালুখালী পাহাড়ে আশ্রয় নেন। অনুপ্রবেশের  ১৩ দিন পর আশ্রয় নেয়া সেই পাহাড়ের চূড়ায় হঠাৎ শুরু হয় প্রসব বেদনা। এরপর নূর বিবির অন্ধকার চোখ আলো করে ভূমিষ্ঠ হয় এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান। ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে বালুখালী পাহাড়ের চূড়ায় সদ্য জন্ম নেয়া মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা যায় প্রথমবারের মতো মা হওয়া নূর বিবিকে।

তবে প্রথম মা হওয়ার আনন্দ স্পর্শ করতে পারছে না নূর বিবিকে। কারণ তার মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সময় সবাই বাড়ি থেকে বের হলেও তারা কোথায় আছেন, তা জানেন না তিনি।

এভাবে কোনোরকম চিকিৎসা সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নোম্যান্সল্যান্ডে গত ১৮ দিনে শতাধিক নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এ ছাড়াও আশ্রয় নেয়া সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় জন্ম হয়েছে অসংখ্য শিশুর। এমনকি পারাপারের সময় নৌ-যানেও অনেকেই সন্তান প্রসব করেছেন। যাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় বলে জানা গেছে।

২৫ আগস্ট রাতে রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ ৮৯ জন মারা যায় বলে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্যে জানা যায়। এর পরই রাজ্যটিতে শুরু হয় সেনা অভিযান।

বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী সেনা অভিযানে রাখাইনে অন্তত তিন হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় তিন লাখের অধিক রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

Advertisement

কমেন্টস