কুয়াকাটায় বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় আর এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবারহ করতে সক্ষম ‘সি-মি-উই-৫’ এ স্টেশনটি গণভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার সহ উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

দেশের ক্রমবধৃমান ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কথা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ গতি সম্পন্ন ব্যান্ডউইথ সেবা দিতে কুয়াকাটায় মাইটভাঙ্গা গ্রামে ২০১৩ সালে ১০ একর জমির উপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন। তথ্য প্রযুক্তির মহাসড়কে যুক্ত হতে ২০১৪ সালে মার্চ মাসে মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক সি-মি-ইউ-৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

সমুদ্র তলদেশের ২৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর কুয়াকাটার দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনে সংযোগ স্থাপিত হয়। প্রথম সাবমেরিন কেবলের চেয়ে প্রায় আট গুন ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলটির পরীক্ষামুলকভাবে সংযোগ চালু হয় চলতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ সাবমেরিন ক্যাবল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলি কমিউনিকেশন প্রজেক্ট’র প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ,  বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন জানান, উদ্বোধনের দিন থেকে ২০০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ এবং পর্যায়ক্রমে তা ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে। ‘সি-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়াম আমাদেরকে ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএসই ব্যান্ডউইথ দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের বাজার কতটা তৈরি, কতটুকু প্রয়োজন এসব আগে জানতে হবে। বাজারে যদি ব্যান্ডউইথের চাহিদা না থাকে তাহলে বেশি নিয়ে আমরা কি করব।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানী লিমিটেড (বিএসসিসিএল) জেনারেল ম্যানেজার মশিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্ভোধনের মধ্য দিয়ে এই স্টেশনটি আইটি সেক্টরে একটি বিশাল উন্নয়ন সাধিত হবে। বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জনগন তুলনামুলক কম খরচে ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে পারবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড.মাছুমুর রহমান, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যান্ডউইথসহ ইন্টারনেট সুবিধা নিয়ে নির্মিত এ কেবল স্টেশনটি চালুর মধ্য দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির বিশ্বে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ ঠাই করে নিবে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন যে প্রধানমন্ত্রী দেখছেন তার অন্যতম লক্ষ হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা। আগামীতে দেশ ফোরজি ফাইভ জির দিকে ধাবিত হবে দেশ।

প্রসঙ্গত ‘সি-মি-উই-৫’ হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, জিবুতি, ইয়েমেন, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি ও ফ্রান্স। ২১ ফ্রেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই কনসোর্টিয়ামের উদ্বোধন হয়। গত ১৬ জানুয়ারি হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৪ টেরাবাইট পার সেকেন্ড (টিবি/এস) গতির এই সি-মি-উই-৫ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই কনসোর্টিয়ামে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশ এবং এই ক্যাবলের মোট ল্যান্ডিং পয়েন্ট রয়েছে ১৮টি।

কমেন্টস