বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭

সংগৃহীত

বিডি মর্নিং ডেস্ক:

ঢাকার সাভারে নদীতে নৌকায় করে বেড়াতে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলায়। সে ও তার মা তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের একটি বাসায় একটি কক্ষ নিয়ে ভাড়া থাকে। পড়াশুনা করে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে। গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) আগে বিকেলে ওই ছাত্রী তার এক বান্ধবীকে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি নদীতে নৌকায় করে বেড়াতে যায়। এ সময় স্থানীয় নিমেরটেক এলাকার হেরোইন ব্যবসায়ী শিপু মিয়া (২১) কৌশলে ওই ছাত্রীর বান্ধবীকে মারধর করে একটি জায়গায় আটকে রাখে। এরপর ওই ছাত্রীকে একটি ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেন শিপু মিয়া।

এ সময় ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে ওই স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় ওই মাদক ব্যবসায়ী। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণের বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা সাভার মডেল থানা পুলিশকে ঘটনা জানান। পরে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে শিপু মিয়ার পক্ষ নিয়ে গ্রামের মাদবররা ধর্ষণের বিচার করে মীমাংসা করবেন বলে ওই ছাত্রীর মাকে এ নিয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করেছেন। কাউকে ধর্ষণের ঘটনা জানালে উল্টো তাদের এলাকা ছাড়ারও হুমকি দেন তারা।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানিয়েছেন, স্কুলছাত্রীর মা শুক্রবার (০১ সেপ্টেম্বর) থানায় শিপু মিয়া ও তাঁর সহযোগী জাভেদের নামে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে দুই আসামি পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, নিমেরটেক এলাকার শিপু মিয়া প্রকাশ্যে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হেরোইন বিক্রি করছে। মাদক ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ একাধিক বার তাকে আটক করলেও পরে ছাড়া পেয়ে আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

এদিকে শিপু মিয়াকে অবিলম্বে আটক করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর।

একই সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী। সাভার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সেলিম মণ্ডলের ভাই বিরুলিয়ার আক্রান এলাকার মহসিন মণ্ডল ও জুয়েল মণ্ডল, চাচাতো ভাই তানভীর মণ্ডল, খালাতো ভাই হামিদ চিরমিরি এবং তাঁদের সহযোগী গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পারভেজ এই ঘটনায় জড়িত বলে কিশোরী অভিযোগ করেছে। ঘটনার পর কিশোরীর বাবা পাঁচজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ কর্মকর্তারা সেলিম মণ্ডলের আপন ভাই মহসিন মণ্ডল ও জুয়েল মণ্ডলের নাম বাদ দিয়ে দেন। পুলিশ শুধু তানভীর মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।

কমেন্টস