ডিমলায় মা’কে বেঁধে রেখে ৩ সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ

প্রকাশঃ আগস্ট ২০, ২০১৭

মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় অন্তঃসত্ত্বা শেফালীকে গাছে বেধে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতে এবার মা’কে বাড়ীর উঠানে বেঁধে রেখে ৩ সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২০ আগস্ট) ভোর রাতে ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নর দুর্গম চর পশ্চিম ছাতুনামায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা’কে বাড়ীর উঠানে বেধে রেখে ৩ সন্তানের জননী ফেন্সি বেগম (২৭) কে তুলে নিয়ে গিয়ে গনধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লম্পটদের বিরুদ্ধে। ফেন্সি বেগম পশ্চিম ছাতুনাম গ্রামের কলিম উদ্দিনের কন্যা ও একই এলাকার রশিদুল ইসলামের স্ত্রী।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোরে ফেন্সি বেগম’র মা ফাতেমা বেগম (৬০) কে বাড়ীর উঠানে মুখ কাপর ও দুই হাত রশি দিয়ে খুটিতে বেঁধে রেখে বাড়ীর ১ কিলোমিটার পূর্ব দিকে নির্জন এলাকায় নিয়ে স্থানীয় বখাটেরা জোর পুর্বক ধর্ষণ করে ফেন্সি বেগমকে । দুপুরে পুলিশ হাত পা বাঁধা অবস্থায় ফেন্সি ও তার মা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে। পরে ডিমলা থানার সিনিয়র সাব ইন্সেপেক্টর (এসআই) শাহাবুদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে ফেন্সি ও তার মা’কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির করান। বিকাল ৩টায় মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পুলিশি পাহাড়ায় নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফেন্সি বেগম জানায়, তার মুখ বেধে ৩/৪ জন মিলে ধর্ষন করেছে তাকে। তবে কারা তাকে ধর্ষণ করেছে তাদের নাম সে বলতে পারেনি।

ফেন্সির মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার জামাতা রশিদুল ইসলাম বাড়ীতে না থাকায় আমি, মেয়ে ফেন্সিসহ আমার নাতনী রেখা (৭), পারভীন (৩) ও নাতি সবুজ (৫) সহ জমাই বাড়ীতে বসবাস করতাম। রবিবার ভোরে রাতে পার্শ্ববর্তী মিস্টার, রহিম, দেলওয়ার, চেতনাসহ ১০/১২জন আমার মেয়ের রুমে প্রবেশ করে তাকে হাত পা বেঁধে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার মুখ বেঁধে বাইরের উঠানে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। আমার নাতনী রেখা আক্তারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। ডিমলা থানার এসআই শাহাবুদ্দিন বলেন, ফেন্সি ও তার মা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফেন্সির পিতা কলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আবুল হোসেন, মোকলেছার রহমান, চাটি মামুদের সাথে জমি নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছিল। আমার পরিবারের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে বেঁধে রেখে ফেন্সিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।

ডিমলা হাসপাতালে জরুরী বিভাগে কর্মরত ডাক্তার কৃষ্ণা রানী সেন বলেন, দুপুর ২টায় ফেন্সি ও তার মা ফাতেমা বেগমকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেন্সির অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বিকাল ৩টায় নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক।

ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঘটনার স্বীকার মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নীলফামারীতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত থানার মামলা দায়ের হয়নি, তবে পরিবারকে থানায় মামলা দেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ।

Advertisement

কমেন্টস