কোরবানি না দিয়ে সেই টাকায় ত্রাণ সহায়তার সুযোগ নেই: শীর্ষ মুফতিয়ে কেরাম

প্রকাশঃ আগস্ট ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দেশের ২৭টি জেলা। এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ১৮ হাজার বানবাসি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর বন্যায় এখন পর্যন্ত মোট ক্ষতিগগ্রস্ত ১৩৩টি উপজেলা, ৪৩টি পৌরসভা, ৮৫৫টি ইউনিয়ন, ৫৪৬৯টি গ্রাম। এসব এলাকায় খাদ্যে সঙ্কট, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। অসহায় মানুষদের সহায়তায় প্রয়োজন কোটি কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী।

মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় বিধান ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানি করা হবে হাজার কোটি টাকার পশু। তাই এসব অর্থ কুরবানির পেছনে ব্যায় না করে বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার আহ্বান করছেন দেশের খ্যাতিমান টিভি তারকা ও শিল্পীরাসহ অনেকই। এমনকি অনেকেই কুরবানি না করে সেই অর্থ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে দেশের শীর্ষ মুফতিয়ে কেরাম বলছে, কুরবানি না দিয়ে কুরবানির অর্থ বন্যার্তদের মাঝে বিলিয়ে দিলে কুরবানি আদায় হবে না। তবে দানের সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু কুরবানির ওয়াজিব বিধান লঙ্গন হবে।

এ বিষয়ে চট্রগ্রাম ওমর গণী কলেজের অধ্যাপক ও মাসিক আত-তাওহীদ এর সম্পাদক মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, একদিকে বন্যা অপরদিকে ঈদুল আযহা। একদিকে মানবতার আর্তনাদ অপরটি সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত বিধান পালন। কুরবানি একটি ওয়াজিব বিধান। সামর্থ্যবানদের জন্য এটি পালন করা জরুরি। কেউ যদি কুরবানি না করে সেই টাকাটা বন্যার্তদের জন্য দান করেন এতে কুরবানি আদায় হয়ে যাবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। যদি আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে বন্যার্তদের দান করার দ্বারা আপনার কুরবানি করার দায়িত্ব পালন হবে না। কুরবানি ও বন্যাদুর্গতদের সহায়তা এ দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, দুটি বিষয়েই মানুষের সম্পৃক্ত থাকা উচিত।

যার ওপর যাকাত ফরজ তার ওপর কুরবানিও ওয়াজিব। অতএব, যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব তাকে অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে বা এই বিধান পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সর্বনিম্ন পরিমাণ অর্থ খরচ করে কোরবানির ওয়াজিব হুকুম আদায় করতে হবে। এর বাইরে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাগ্রস্ত বা অভাবী মানুষকে সহযোগিতা করবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কারো নিয়ম তিনি প্রতি বছর এক লাখ টাকা মূল্য মানের গরু কুরবানি করেন, তার উচিত হবে এবার তিনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির ওয়াজিব হুকুম আদায় করবেন এবং বাকি টাকাটা বন্যাগ্রস্ত বা অভাবীদের দান করে দেবেন। এই দানকে ইসলাম শুধু অনুমোদনই করেননি বরং ভালো বলেছে।

‘এছাড়া যিনি দুটি বা তিনটি গরু কোরবানি করতেন, তিনি এবার একটি গরু কোরবানি করবেন এবং বাকি টাকা দান করে দিবেন।’ বলেন তিনি।

এ বিষয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যেমন ইসলামের দাবি কুরবানি করাও ইসলামের দাবি। দু,টিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটির জন্য অপরটি ছেড়ে দেওয়া পরোক্ষ অপরটির বিরোধিতার শামিল। ফলে কুরবানি না করে কুরবানির টাকা অসহায় বন্যার্তদের মাঝে দিলেই কুরবানি পালন হবে না। দু,টি দায়িত্ব পালন করাই সামর্থ্যবানদের উচিত। কুরবানিও করতে হবে অসহায়দের সহযোগিতাও করতে হবে। দু,টির মাঝে সমন্বয় করাই ইসলামের দাবি।

কমেন্টস