‘ছাত্রলীগ সংগঠনের লক্ষ্য উদ্যেশ্য ও সংবিধান কিছুই জানে না’

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বর্তমান ছাত্রলীগকে দেখলে দুঃখ হয়, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ তাঁদের সংগঠনের লক্ষ্য উদ্যেশ্য ও সংবিধান সম্পর্কে কিছুই জানে না। তারা শুধু মিছিলের দল। পড়া-শুনা তো নেই-ই, নেই খেলা-ধূলা, শরীর চর্চা, ব্যায়ামও।

রবিবার বিকেল ৫ টায় শিল্পকলা একাডেমী হলরুমে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগ সকল আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে নেতৃত্ব দিতো। ওই সময়ে ছাত্রনেতা হিসেবে যে মর্যাদা ও সম্মান ছিলো তা এখন মন্ত্রীর তুলনায় কিছুই না। ছাত্রসমাজের নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক নেতার চেয়েও অনেক বেশি সম্মানিত ছিলো।

তিনি ছাত্রলীগকে বলেন, পড়া-শুনা করতে হবে, মা-বাবার সেবাযত্ন করতে হবে, পাড়া-প্রতিবেশীকে সাহায্য-সহযোগিতা ও জনসেবা করতে হবে। কোন নেতা কি করে তার সব খোঁজ খবর আমাদের কাছে আসে। আমি প্রশাসনকে কঠোর হস্তে মাদক নির্মূলের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। এব্যাপারে কোন দয়া নেই। আমরা ভবিষ্যতে আদর্শবান লোক (ছাত্রলীগ) দিয়ে দল গঠন করবো।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু আরও বলেন, আইনের শাসনের নামে পার্লামেন্টকে উপেক্ষা করে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা দেশবাসী সহ্য করবে না। দেশবাসী এসব বিষয়কে প্রতিহত করবেই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার গঠনের সময় ঐতিহাসিক বৈদ্যনাথ তলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছিল সংবিধান মেনেই। বর্তমানে কিছু লোক আছে যারা আমাদের সংবিধান শিখায়। যে যেই অবস্থানেই থাকুক না কেন কথা বলার পূর্বে বিবেচনা করে কথা বলা উচিৎ। কোন ব্যক্তি যদি কোন মহান নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করে তারও পরিনাম ভালো হবে না।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদে'ছাত্রলীগ সংগঠনের লক্ষ্য উদ্যেশ্য ও সংবিধান কিছুই জানে না'শকে স্বাধীন করেছিলো বলেই তাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। শিশু রাসেলকেও হত্যা করেছে বড় হয়ে কিছু একটা হতে পারে এই ভেবে। সেদিন ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যাওয়ায় স্বাধীনতার উত্তরসূরীরা মাথা জাগিয়ে বেঁচে আছে। প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টায় আজ বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মোঃ শাহ আলম, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক এসএম আল আমিন। অন্যন্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধু, ফারজানা ববি নাদিরা, যুগ্ম সম্পাদক শেখ রাব্বি প্রমুখ।

পরে ১৫ আগস্ট শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

কমেন্টস