অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে কবি গোলাম মোস্তফার স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটা

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

খালিদ মিশাল (ঝিনাইদহ) শৈলকুপা প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে কুমার নদের তীরে মনোহরপুর গ্রাম। ১৮৯৭ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা শৈলকুপা উপজেলার এই গ্রামে জন্ম নেন। এখানেই কবির ভিটেবাড়ি। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থের রচয়িতার জন্মভিটা।

গ্রামের যুবসমাজ ‘কবি গোলাম মোস্তফা স্মৃতি পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক সংঘ’ নামে সেখানে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেখানে একটি লাইব্রেরি করা হয়েছে। প্রতি বছর কবির জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কিছু অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও অযত্ন আর অরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেছে কবির বসবাসের মূল পিতৃভিটা।

কবির পিতৃ ভিটাবাড়িটি রক্ষায় সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি। এই ভিটাবাড়িসহ কবির স্মৃতি ধরে রাখতে সরকারি কোনো দৃষ্টি না পড়লেও শৈলকুপাবাসী তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য মনোহরপুর ও পাশের হিতামপুর গ্রামে কবির নামে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কবির বাড়ি ও স্মৃতিবিজড়িত বৈঠকখানা ও গ্রাম দেখতে এসে ভোগান্তির স্বীকার হয় দর্শনার্থীরা।

১৯১৪ সালে শৈলকুপা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯১৬ সালে খুলনা দৌলতপুর কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন কবি গোলাম মোস্তফা।কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯১৮ সালে বিএ পাশ করেন এবং ১৯২০ সালে ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর সরকারি হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ডেভিট হেয়ার ট্রেনিং কলেজ থেকে বিটি পাশ করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে ফরিদপুর জিলা স্কুলে ১৯৪৬ সালে যোগদান করেন এবং ১৯৫০ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। গীত রচনা, কাব্য, উপন্যাস, জীবনী অনুবাদসহ বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় তার পদচারণা ছিল।

১৯১৩ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় তার প্রথম লেখা ‘আদ্রিয়ানোপল উদ্ধার’ কবিতা প্রকাশিত হয়। কবি গোলাম মোস্তফা ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে বাংলা সাহিত্যে বিশিষ্টতার দাবিদার বলে আখ্যায়িত। কবি গোলাম মোস্তফার অন্যতম প্রধান গদ্য সাহিত্য ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থখানি শ্রেষ্ঠ অবদান। ১৯৪৭ সালের প্রকাশিত হয় ‘ইসলাম ও জ্বেহাদ’, ‘ইসলাম ও কম্যুনিজম’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে। এছাড়া ১৯৪২ সালে ‘মরু দুলাল’ এবং ‘বিশ্বনবী’ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নাটক ও বই রয়েছে তার রচিত।

Advertisement

কমেন্টস