বন্যায় খাদ্য ঘাটতি হলেও মোকাবেলায় প্রস্তুত সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

অতি ভারী বৃষ্টিপাত আবমগ পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেছে দেশের বিস্তির্ন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। এর ফলে বিভিন্ন জেলায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ঘাটতি। তবে ‘দেশে সৃষ্ট বন্যার কারণে খাদ্য ঘাটতি হলেও তা মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত বলে, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত চাল আমদানি করছে সরকার।

রোববার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় পুষ্টি পরিষদের প্রথম সভায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, আমাদের সব সময় হিসাবে রাখতে হয়, বন্যা, খরা বা জলোচ্ছ্বাস; যে কোনো রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। এবারের আগাম বন্যায় আমাদের অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। আমাদের ধারণা, আবার বন্যা আসতে পারে। ব্যাপক বন্যা যদি হয়, তাহলে আমাদের খাদ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেজন্য আমরা বাইরে থেকে খাদ্য কিনে মজুদ রাখার ব্যবস্থা নিয়েছি। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত।

বিগত বিএনপি সরকারের প্রধান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ঠিক নয়, তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া হবে না। তাদের নীতিই ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে না। বিদেশিদের কাছে হাত পেতে দেওয়া ছিল তাদের নীতি।

‘আমাদের নীতি আলাদা। আমরা ক্ষমতায় এসে জনমুখী পদক্ষেপ নিই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খাদ্য মজুদও করি।’

তিনি বলেন, আমাদের সরকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এখন, পুষ্টি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার কথা তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, যারা স্বাধীনতা চায়নি, তারা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেদিন তারা চারটি বাড়িতে আক্রমণ করে। পরে তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে।

‘হত্যা-ক্যু ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসে দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আমরা আবার দেশকে গড়ার উদ্যোগ নিই। ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যায় আওয়ামী লীগ সরকার’।

কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আবারও দেশকে পিছিয়ে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে আবার ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসি। এসে দেখি দেশে আবার ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি।

পুষ্টির বিষয়ে সর্বস্তরে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন সুষম খাদ্য গ্রহণ করে। খাদ্যাভাস উন্নত করতে হবে এবং সময় মতো খেতে হবে।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিসহ সংশ্লিষ্ট সচিব-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

কমেন্টস