পুর্বের রেকর্ড ভেঙে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর তিস্তার পানি

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আজ সকালে তিস্তা ব্যারেজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়। তিস্তা ব্যারেজ স্থাপনের পর এবারই সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পানি পরিমাপক) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ। পানি আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় লালমনিরহাট সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জের ভোটমারী, তুষভান্ডার ও কাকিনা ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টসহ সব জায়গায় ২৪ ঘণ্টার জন্য পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত চার দিনের ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের ধরলা, তিস্তা ও সানিয়াজান নদীসহ ছোট, বড় নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। রোপা আমন ক্ষেত, সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘শনিবার সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তিস্তা পাড়েই ছিলাম। চোখের সামনে স্থানীয় লোকজনের ঘরবাড়ি-গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হতে দেখেছি। এমনকি রাতের মধ্যে তিস্তা ফ্লাড বাইপাস মহাসড়কটি ভেঙে গেছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ক্যাম্প ও পুলিশ ফাঁড়িটির সদস্যরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।’

হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে থাকা লোকজনের অবস্থা আরও বেশি ভয়ানক। কোথাও মেডিক্যাল টিম নেই। প্রশাসনের দু’ একজন কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও তারা খালি হাতে চুপিচুপি চলছেন।’

এদিকে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম জানান, ধরলার প্রবেশপথ বুড়িমারী ও তিস্তার প্রবেশপথ দহগ্রাম ইউনিয়নসহ গোটা উপজেলা বন্যায় তলিয়ে গেছে। কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমর পানির মধ্যে লোকজন বসবাস করছে। বিষয়টি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এমপি মোতাহার হোসেনকে জানানো হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের চেষ্টা চলছে।’

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বন্যা কবলিত লোকজনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং লালমনিরহাট সদর আসনের এমপি আবু সাঈদ মো. দুলালকে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় ত্রাণমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক সফিউল আরিফ বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণের চেয়ে এখন বন্যা কবলিত এলাকার জনসাধারনকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়াই জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কাজটিও চলছে, ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

Advertisement

কমেন্টস