কক্সবাজারে লাগামহীন পেঁয়াজের দাম!

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

তামিরুল ইসলাম মিল্লাত, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারে কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন তা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আগস্ট মাসের শুরুতেই পেঁয়াজের বাজার মূল্য ছিল কেজি ২৫ থেকে ২৭ টাকা। অথচ সপ্তাহ না পেরোতেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি।

বন্যার কারণে প্রতিবেশি দেশ ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকার ও খুচরা বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণ বলে জানালেন কক্সবাজার শহরের এক পাইকার বিক্রেতা।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সে দেশের বাজারে গত দু’সপ্তাহে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম ১১৮ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী প্রদেশ মহারাষ্ট্রের নাসিকে পাইকারিতে প্রতি কেজি ৫ থেকে ৬ রুপি ছিল। এখন তা বেড়ে ১২ থেকে ১৩ রুপি কেজি। গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এ দর। এভাবে বাড়তে থাকলে রফতানির নূ্ন্যতম মূল্য আরো বাড়াতে পারে ভারত।

শুধু তাই নয়- আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে উপলক্ষ করে হু-হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের পাশাপাশি নিত্য-পণ্য আদা ও রসুনের দাম। এক সপ্তাহ আগের ৮০-৮৫ টাকার কেজি আদা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। শহরতলীর মুদি দোকানদার নুরুল আবছার জানান- আদা পাইকার বাজার থেকে এখন কিনতে হচ্ছে কেজিতে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।

অন্যদিকে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে বাজারে উর্ধ্বমূখী রসুনের দাম। ১২০-১৩০ টাকার রসুন গত দু’দিনে দাম বেড়ে এক লাফে কেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শহরে বাজার করতে আসা ক্রেতা কলেজ ছাত্র আব্দুল হক রনি বিডিমর্নিং কে জানান- বাজারে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি না থাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্য পণ্য পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে অসাধু পাইকাররা। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

অন্য একটি সূত্র জানায়-আসন্ন কোরবানীর ঈদকে উপলক্ষ করে পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের কারসাজি চলছে। ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের ক্ষতি হলেও বাংলাদেশে তা হয়নি। তবুও দাম বৃদ্ধির হার ভারতের চেয়েও বেশি।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিডিমর্নিং কে জানান, বন্যার কারণে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেওয়ায় ভারতে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গুদামে বন্যার পানি ঢুকে শত শত টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন বলেন, পেঁয়াজের দুই মৌসুমের মাঝামাঝি সময় এখন। এ কারণে মোকামে পেঁয়াজ কম থাকায় দাম বেশি। তা ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়লে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ে- এ কারণে দাম বেড়েছে।

Advertisement

কমেন্টস