ইউএনও’কে সম্মান দেখানোয় পুরস্কার পাচ্ছেন এএসআই শচিন

প্রকাশঃ জুলাই ২৩, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন ইউএনও গাজী তারিক সালমানের জামিন আবেদন বাতিল করার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরা হাতকড়া পরিয়ে হাজতে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন পুলিশকে। ওই সময় সেখানে দায়িত্বে ছিলেন সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শচিন। তিনি ইউএনও গাজী তারিক সালমানের ডান হাত ধরে আদালতের বাইরে নিয়ে আসেন। বাইরে আসার পরও আইনজীবীদের কঠোরতা ছিল ইউএনওকে হাতকড়া পড়ানোর।

উপায়ান্ত না পেয়ে শচিন একটি হাতকড়া ইউএনওর হাতের ওপর রেখে নিজের বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরেন। অপর হ্যান্ডকাপটি ঝুলতে থাকে। দেখলে মনে হবে ইউএনও গাজী তারিক সালমানের হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়েছে। এরপর ইউএনওকে হাটিয়ে আদালতের হাজত খানায় নিয়ে যান শচিন। কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি ইউএনওর হাতে হাতকড়া পরানো হয়নি।

শনিবার (২২ জুলাই) বিকেলে সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শচিন বলেন, ইউএনও স্যারকে আমি কীভাবে হাতকড়া পরারো। আইনজীবীদের কঠোরতার কারণে এমনভাবে হাতকড়া হাতে নিয়েছি যাতে সকলের মনে হয়েছে ইউএনও স্যার হ্যান্ডকাপ পরিহিত। তাকে হাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় ইউএনও স্যার একটি কথাও বলেননি, ছিলেন নিশ্চুপ। বলতে গেলে বিচারকের আদেশের পরে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই শচিনের কর্তব্যবোধ দেখে রীতিমত মুগ্ধ হয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন। যে কারণে তার কর্মফল স্বরূপ পুরস্কার দেয়ার কথা ভাবছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু বর্তমানে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কারণ ইউএনওর হাতে হাতকড়া পরানোর একটি গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সেটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে খোদ কমিশনার। যে কারণে এ বাস্তবতায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না বলে মনে করছে পুলিশের দায়িত্বশীল মহল। তবে খবরটি শুনে পুলিশের অনেক কর্মকর্তাই এএসআই শচিনকে ডেকে নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছে বলে শোনা গেছে।’’

উলেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন থেকে আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেহারা ‘বিকৃত’ করা হয়েছে অভিযোগ করে ৭ জুন তারিক সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

ওই মামলায় সমন জারি হলে ইউএনও গত ১৯ জুলাই আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর দুই ঘণ্টা হাজতবাসের পর জামিনে ছাড়া পান তিনি।

আদালতের আদেশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিককে পুলিশ ধরে নেয়ার ছবি প্রকাশের পর থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রীও এতে বিস্মিত হন। এই প্রেক্ষাপটে তারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সাজু বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।’

Advertisement

Advertisement

কমেন্টস