গৃহকর্মী আদুরীকে নির্যাতন মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায়
‘আমি ৫ তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করব’

প্রকাশঃ জুলাই ১৮, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

 ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার গৃহকর্মী আদুরীকে নির্যাতনের মামলায় গৃহকর্ত্রী নওরিন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। রায় শুনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নদী উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

রায়ের পর নদীকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমাকে বাইরে নিয়ে চলো। আমি পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবো।’

এরপর আসামি নদীকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে নওরিন জাহান নদীর পক্ষের আইনজীবী সাইফুর রহমান জানান, ‘তিনি এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।’

উল্লেখ্য, আদুরীকে প্রতিবেশী চুন্নু মীরার সহযোগিতায় রাজধানীর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর বাসায় পাঠানো হয়। তবে নানান অজুহাতে নদীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় সে। দুই বেলা খাবারের বদলে তার মুখে মরিচের গুঁড়ো ঢেলে দেয়া হতো। এছাড়াও নির্যাতনে ব্যবহার করা হতো খুন্তি, গরম ইস্ত্রি, চাকু ও ব্লেড। সুস্থ হওয়ার পর এমন তথ্য দেয় আদুরী। দুরীর শরীরের ক্ষত চিহ্নগুলো এখনও স্পষ্ট হয়ে আছে।

নির্যাতনের একপর্যায়ে নদী ও তার মা ইসরাত জাহান পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিনে তাকে ফেলে দিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুই নারীকর্মী অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করে আদুরীকে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হলে ৩ নভেম্বর তাকে তুলে দেয়া হয় পরিবারের কাছে।

একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর আদুরীর মামা মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নদী ও তার মাকে আসামি করে নির্যাতনের ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নদীকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। গৃহকর্মী আদুরীকে নির্যাতন ও ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। এই টাকা আদুরীকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।

Advertisement

কমেন্টস