বাসায় ডেকে নিয়ে আদিবাসী প্রেমিকা অচেতন করে ‘ধর্ষণ’

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

বশির আল মামুন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি-

চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার বাসায় ডেকে নিয়ে আদিবাসী কিশোরী প্রেমিকা কল্পনা চাকমাকে (১৭) (ছদ্মনাম) অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিক যুবক সুনেল ত্রিপুরা (২১) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

রবিবার (১৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে পুলিশ ইপিজেড থানার ব্যারিষ্টার সুলতান আহমদ কলেজস্থ আমেনা ভবনের ৫ম তলার ৫০৭ নম্বর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সুনেল ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষক সুনেল ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানার চাপাতল পাড়া গ্রামের কলা মনি ত্রিপুরার পুত্র।

ধর্ষণের শিকার কল্পনা চাকমা একই এলাকার বাসিন্দা। কল্পনা চাকমা নগরীর ইপিজেডের জিএস ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তিনি পরিবারের সাথে ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ কলেজ গলিতেই থাকেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী কল্পনা চাকমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন । আজ সোমবার তার ডাক্তারী পরীক্ষা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জুলাই আমেনা ভবনের উল্লেখিত বাসায় কল্পনা চাকমাকে অচেতন করে গভীর রাত পর্যন্ত সুনেল ত্রিপুরা ধর্ষণ করেছে বলে রবিবার সন্ধ্যায় থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন কল্পনার পিতা হেম রঞ্জন চাকমা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইপিজেড থানার সেকেন্ড অফিসার জাহেদ উল্লাহ জামান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিন্তু অনৈতিক কাজে মেয়েটিকে রাজি করাতে না পেরে বাসায় নিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেছে যুবকটি।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা রবিবার রাতে মামলা দায়ের করার পরপরই আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি।

ধর্ষিতা কল্পনা চাকমার চাচাতো ভাই তপন চাকমা জানায়, গত ১৪ জুলাই শুক্রবার গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকায় বেলা ১টার দিকে কল্পনা তার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পরও ফিরে না আসায় আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। তার মোবাইলে ফোন করলে কেউ রিসিভ না করায় আমরা আরো বেশি চিন্তায় পড়ে যাই।
পরে রাত ১০টা নাগাদ তার ব্যবহৃত ফোনটি রিসিভ করে এক পুরুষ জানায় কল্পনা অচেতন অবস্থায় আমেনা ভবনের ৫ম তলার একটি কক্ষে পড়ে রয়েছে। এ খবর শুনে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওখানে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন হয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি এবং এ ব্যাপারে যুবক সুনেলের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, কল্পনার পিরিয়ড হয়ে অধিক রক্তক্ষরণ হলে সে অচেতন হয়ে পড়েছে।

পরে আমরা কল্পনাকে অচেতন অবস্থায় আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে নেওয়ার পর তার জ্ঞান এলে সে জানায়, সুনেল তার বাসায় তাকে দাওয়াত দিলে সে তার বাসায় যায়। পরে সুনেল তাকে কিছু খাবার দেয়, আর সে খাবারগুলো খেয়ে সে অচেতন হতে থাকলে তাকে জোর করে ধর্ষণ করে। এর পর তার কিছু মনে নাই।

কল্পনা কিছুটা সুস্থ্য হওয়ার পর তার মুখ থেকে ঘটনা জেনে আজ রাতে মামলা করা হয়েছে।

ইপিজেড থানার সেকেন্ড অফিসার জাহেদ উল্লাহ জামান আরো জানান, ‘গ্রেফতারকৃত যুবক কল্পনাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে এবং তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানায়। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার পর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

কমেন্টস