স্বামীকে আটকে নববধূকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেন সেই ছাত্রলীগ সভাপতি

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বরিশালের বানারীপাড়ার বেতাল গ্রামে এক লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় টেম্পুচালক স্বামীকে বেঁধে নববধূকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা।

সোমবার দুপুরে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন। এদিকে ধর্ষণ মামলার আসামি হওয়ায় বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদ থেকে সুমন হোসেন মোল্লাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

ধর্ষণের দায় স্বীকার করে সুমনের আদালতে দেয়া জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া সার্কেলের এএসপি শাহাবুদ্দিন কবীর। জবানবন্দির পর তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সোমবার শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি এ মামলার সাক্ষী ও নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী সেলিম ও ফুফু শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম ২২ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ফুফু শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম বলেন, রাত ১১টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা সুমন দলবল নিয়ে সেলিমের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আর মেয়েটিকে সেলিম বিয়ে না করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়ে এসেছে বলে দাবি করে। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে সেলিম ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বেতাল ক্লাবের পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখে সুমন। রাতে সেলিমের স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসে। আমাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের আরেকটি কক্ষে সেলিমের স্ত্রীকে রাতভর ধর্ষণ করে সুমন মোল্লা।

এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর কালীবাড়ি রোডের এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসা থেকে ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সুমন বানারীপাড়ার বেতাল গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন মোল্লার ছেলে।

এদিকে ধর্ষন মামলার আসামী হওয়ায় সুমন হোসেন মোল্লাকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদ থেকে সাময়িক বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সংগঠনের বরিশাল জেলা কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার রাতেই সুমনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রবিবার রাতেই বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে সুমন হোসেন মোল্লাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে ১ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় বেতাল গ্রামে টেম্পো চালক স্বামী মো. সেলিমকে রাতভর আটকে রেখে তার নববিবাহীতা স্ত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ নেতা সুমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রবিবার ধর্ষিতার স্বামী মো. সেলিম বাদী হয়ে সুমনকে প্রধান এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনকে আসামি করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই রাতেই নগরীর কালীবাড়ি রোডে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসা থেকে প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুমনকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল তাকে ওই মামলায় বরিশালের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে আদালতের বিচারক সিহাবুল ইসলামের কাছে ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুমন। এরপর আদালত সুমনকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

কমেন্টস