প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গণ অভিযোগ
ইউএনও’র একক আধিপত্যে অতিষ্ঠ তালাবাসী

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

ইলিয়াস হোসেন, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি-

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন যোগদানের পর থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার জেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত সদস্য মীর জাকির হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ তরিকুল ইসলামের নামে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করে এখন শুধু আলোচনা নয় সমালোচনার ঝড় বইছে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো, জেলা প্রশাসক বরাবর ইতি মধ্যে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারসহ ৬৬ জন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঐ অভিযোগে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেকে ধুরন্দর ক্ষমতাধর হিসেবে জাহির করতে একের পর এক নানা অনিয়ম দুর্নীতি, মাদক সেবন এমনকি বিভিন্ন দপ্তর থেকে ঘুষের টাকা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখান।

উল্লেখ্য, তালা উপজেলার খরাইল বিলে দুই পক্ষের মধ্যে মৎস্য ঘের দখল করিয়ে দিতে ১০ লক্ষ টাকার অধিক ঘুষ বাণিজ্য করেছেন তিনি। যেখানে প্রকাশ্যে জামায়াত নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম ও মধু মুস্তাক বাহিনী দেশিয় অস্ত্রের মহড়া দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া তালার প্রত্যেকটি উন্নয়নমূলক টেন্ডারে ২৫% হারে উৎকোচ না দিলে টেন্ডারই বাস্তবায়ন হয়না। উক্ত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিকদের নিকট থেকেও ২ দিনের টাকা নিজেই কর্তন করে নেন। তাছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ইউএনও ফরিদ হোসেনের ব্যক্তিগত ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক থাকেন যারা আদৌ কাজ করেন না।

এদিকে তালা উপজেলা পরিষদের সামনে প্রায়ই ভারতীয় ফাটাকেষ্টের স্টাইলে নিজেকে ফাটাকেষ্ট সাজাতে অসহায় দিনমজুর ভ্যান ওয়ালাদের উপর চড়া হয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেন। অপরদিকে তালা সদরে বসবাসরত সংখ্যালঘু লোলিত মোহন সাধুকর এস.এ রেকর্ডীয় মালিকানা সম্পত্তিতে বিল্ডিং থাকলেও সেটি সরকারি সম্পত্তি দাবি করে তার নিকট থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করেছে।

এদিকে উক্ত রেকর্ডীয় সম্পত্তিতে বিল্ডিং নির্মাণ বন্ধ করে জমির মালিক হারান চন্দ্রসাধুকে ১ মাসের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করেন। ঐ জমিতে সম্প্রতি বিল্ডিং নির্মাণকে কেন্দ্র করে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেনের নামে জেলা পরিষদের সদস্য মীর জাকির হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম না’কি ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও নিজেই বাদী হয়ে তালা থানায় একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা নং ৭, তারিখ ১১/০৭/১৭ইং। জনমনে প্রশ্ন হারান সাধুর নিকট থেকে যদি মীর জাকির ও তার সঙ্গীয়রা ইউএনওর নামে টাকা নিয়েই থাকে তবে তার জন্য দায়ের করা মামলায় হারান সাধু বাদী না হয়ে ফরিদ হোসেন কেন বাদী হলেন।

অপরদিকে, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন যোগদানের পর থেকে একের পর এক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া পাকা আমের মৌসুমে ব্যবসায়ীদেরকে অর্থের বিনিময়ে আমে মেডিসিন ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন। যে কারণে এ মৌসুমে আম ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অপরিপক্ক আম গাছ থেকে ভেঙে তাতে মেডিসিন মিশিয়ে বিক্রি করেছে। কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ অভিযোগ করলেও তিনি কোন ভ্রাম্যমাণ আদালত করেন নি।

জনমনে এখানেও প্রশ্ন ৫ শতাধিক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে মেডিসিন ব্যবহার করলো আর নির্বাহী কর্মকর্তা কিছুই বললেন না কেন? সব মিলিয়ে তালা উপজেলার আলোচিত সমালোচিত ইউএনও ফরিদ হোসেনের একক আধিপত্তে অসহায় হয়ে পড়েছে সরকারি দলের নেতারাও। মীর জাকির ও তরিকুল ইসলামের নামে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে ঐ মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারকেও আরজির মধ্যে উল্লেখ করা হলেও তাকে আসামী না করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে একজন জনপ্রতিনিধি নামে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলায় তালাবাসী হতবাক।

এবিষয়ে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ যাবৎকালের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও মদ্য কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন। স্থানীয় তালা-কলারোয়া আসনের জনপ্রতিনিধির মদদে তিনি ধরাকে সরা করে তালা উপজেলাকে লুটে-পুটে খাচ্ছে। অচিরেই তার মতো অযোগ্য, অসামাজিক কর্মকর্তাকে অচিরেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেওয়া উচিত। ‍ৃ

 

Advertisement

কমেন্টস