রাজশাহী বিএনপিতে দেখা নেই কেন্দ্র ঘোষিত সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

রাজু আহমেদ, রাজশাহী প্রতিনিধি ঃ 

বিএনপিকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় দলটির কেন্দ্র থেকে। জুলাই ও আগস্ট মাস জুড়ে চলবে এ নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ। লক্ষ্য পূরণে পহেলা জুলাই থেকে মাঠে নামার কথা ছিলো। কিন্তু মাসের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও রাজশাহী জেলা ও মহানগরে সদস্য সংগ্রহের কোন কার্যক্রমই চোখে পড়েনি।

স্বয়ং বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজে আগামী দুই মাসে এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট বেঁধে দেন। একই সাথে পহেলা জুলাই থেকে দেশব্যাপি সদস্য সংগ্রহের জন্য নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশনাও দেয়া হয়। কিন্তু সে কার্যক্রমের কোন অগ্রগতি নেই রাজশাহীতে। স্থবির হয়ে রয়েছে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমসহ দলীয় প্রচার প্রচারণাও। 

স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর বিএনপির সভাপতি। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের অবরোধে স্থিবির হয়ে পড়েছিল এই প্রতিষ্টানটি। তিনি এখন দাপ্তরিক কাজ সামলানো নিয়েই ব্যস্ত থাকছেন। অপরদিকে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নগর ফেলে তিনি নগর বিএনপি নয় বরং পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে আছেন। দলিয় উদ্যোগের অভাবে বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন না হওয়ায় নতুন করে দলটির জন্য সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম এখনও রাজশাহী মহানগরে শুরুই করা সম্ভব হয়নি। শুধু রাজশাহী মহানগরেই না; আশেপাশের জেলাগুলোতেও বিএনপির এ কার্যক্রমের কোন অগ্রগতি এখনও লক্ষ্য করা যায়নি।

প্রায় সাত বছর পর ২০১৬ সালে ২৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটি। এই দুই কমিটির প্রধান চার পদের তিনটিতেই সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে নতুনদের নেতৃত্ব দেয়া হয়। নতুন এই কমিটি থেকে বাদ পড়েন প্রাক্তন দুই এমপি মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তোফা। এছাড়াও বাদ পড়েন দলেন সিনিয়র নেতা কামরুল মনির।

ফলে এই নেতাদের অনুসারী প্রন্তিক পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দেয় অসন্তোস। এরপর থেকেই রাজশাহী বিএনপির কোন্দল সামনে চলে আসে। কোন্দলটি ছড়িয়ে পড়ে দলটির অন্যাস্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যেও। আর এই কোন্দল থেকেই গত মে মাসে দলটির কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রিয় নেতা গয়েশ্বর রায়ের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

বিএনপির অনেকেই আশঙ্কা করেন, ২০১৬ সালের শেষে মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। যে বিরোধ বর্তমানের চলমান। এ সমস্যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেতারা। বিএনপির মহানগর ও জেলার উভয় কমিটিতেই এ বিরোধ দৃশ্যমান। এ অবস্থায় রাজশাহী মহনগর ও জেলা বিএনপি’র পক্ষে নতুন সদস্য সংগ্রহ কতটুকু সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে খোদ দলটির কর্মিদের মধ্যেই।

তবে কর্মীরা এমনটা আশঙ্কা করলেও দলের নেতারা তেমনটি মনে করছেন না। তারা জানান, বড় দলের মধ্যে এমন বিরোধ থাকতে পারে। তবে দলের স্বার্থে সবাই এক হয়ে কাজ করে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, আগামী ২৪ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান রাজশাহীতে এসে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে যাবেন। এরপর থেকে পুরো দমে নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জাল হোসেন তপু বলেন, আমাদের জেলা বিএনপির ইউনিট ২৩টি। যার মধ্যে ৯টি উপজেলা রয়েছে। এই উপজেলার ৫টিতে এখনো কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। 

তবে, নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজে কোন সমস্যা নেই বলে তিনি জানান উদ্বোধনের পরে জেলার নেতাকর্মিরা একযোগে মাঠে নামবে বলে তিনি জানান।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। কার্যক্রমটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি। এরপরেই দলের নেতাকর্মীরা  নতুন সদস্য সংগ্রহে মাঠে নামবে।

কমেন্টস