কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে রোগ-বালাই

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। তাদের ঘরে খাবার নেই। হাতে নেই কাজ। বিশুদ্ধ পানির সংকট। তার ওপর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নানা রোগবালাই। সরাকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অনেকের বাড়িঘর এখনও পানির নিচে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। রোববার জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জে ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

মাদারীপুরে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে পদ্মার পানি। গাইবান্ধায় ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা-

হাকালুকি হাওরপাড়ের বড়লেখায় বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। উপজেলার সুজানগর ও তালিমপুর ইউনিয়নে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিন দিনে প্রায় ৪৫০ জন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বন্যা দুর্গতদের জন্য মেডিকেল টিম গঠন ছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবায় এখনও বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চিকিৎসক সংকট নিরসনে অন্য উপজেলা থেকে ডেপুটেশনে ডাক্তার নিয়োগের দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

জামালাপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর : ইসলামপুরে রোববার কিংজাল্লা গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত (১৩) পানিতে পড়ে মারা গেছে। এদিকে নদীর পানি কমলেও দেওয়ানগঞ্জের বানভাসি মানুষের মাঝে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

তাদের হাতে-পায়ে ঘা, চুলকানিসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুরে চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বীর হলকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

মধ্য বয়সী নারী মোমেনা কাবেদাসহ বেশ কয়েকজন জানান, বানের পানি কমতে থাকায় পানি পচে গন্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাত-পায়ে ঘা হয়েশরীর চুলকায় মাথাব্যথার কারণে ঘুম হয় না। এদিকে শনিবার মধ্যরাতে চরকালিকাপুর গোবিন্দনগর ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সিলেট ও জকিগঞ্জ :

জকিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৭৮টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ৮৭ হেক্টর আমন জমির বীজ।

রোববার খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মোক্তাদিরের পক্ষ থেকে খাদিমগর ইউনিয়নের টুকেরগাঁও গনকিরটুক সাতগাছি গ্রামের দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, খাদিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াছ আলী মেম্বার প্রমুখ।

শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মা নদীর মাদারীপুর অংশে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার শিবচর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের ৪ ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরেই পানি ঢুকে পড়েছে। পানির তোড়ে ও তীব্র সে াতে চরাঞ্চলের কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাত ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদসহ কয়েক হাজার পরিবার। নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করায় আক্রান্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সিরাজগঞ্জ : চৌহালী উপজেলার যমুনার দুর্গম চরে ১৩’শ বানভাসির মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি, বারবয়লা, মহেশপুর, মাঝগ্রাম, বেতিলচর, চাঁদপুর ও চৌহালী চরের ৮০০ পানিবন্দি এবং স্থল ইউনিয়নের স্থলচর, মিস্ত্রিগাতী ও চালুহাড়াচরের ৫০০ বন্যার্তের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, স্থল ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা : ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে।

সুতরাং ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। রোববার জেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে এসে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভা শেষে মন্ত্রী ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলপুরে ত্রাণ বিতরণের আগে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : মাদারগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও পৌর সভাসহ ৭ ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বন্যায় ৩৫০ হেক্টর জমির পাট, ১৫ হেক্টর বীজতলা, ৭৪ হেক্টর আউস ও ৭৪ হেক্টর সবজি তলিয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

Advertisement

কমেন্টস