তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বাকালেই সন্তান বিক্রি॥ সিজারের পরই নবজাতক উধাও

প্রকাশঃ জুলাই ৪, ২০১৭

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

শ্যামলি খাতুন যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখনই বিক্রি করে দেয়া হয়েছে তার পেটে থাকা সন্তান। সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার ইউনাইটেড ক্লিনিকে সিজার করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই যখন ক্রেতার লোকজন নবজাতককে সরিয়ে নেন, তখনই বিষয়টি জানাজানি হলেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মঙ্গলবার বিষয়টি সাংবাদিকদের কানে পৌঁছায়। সাংবাদিকরা ছুটে যান ইউনাইটেড ক্লিনিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন শ্যামলি খাতুন প্রথমে তার সন্তান বিক্রির কথা অস্বীকার করলেও পরে বলেছে, দৌলাতদিয়াড় বঙ্গজপাড়ার আল্লাহর দান ফার্মের মালিক হুমায়ুনের মাধ্যমে হাতিকাটার নান্নু তার এক আত্মীয়র জন্য কিনেছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা কলনীর আশরাফুল ইসলাম আশিকুরের স্ত্রী শ্যামলি খাতুনের দেড় বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সোমবার (৪ জুলাই) বেলা ১২ টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা শ্যামলির প্রসব বেদনা দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডে ইউনাইটেড ক্লিনিকে ভর্তি করায়। সকাল দুপুরে সিজার করা হয়।

এ সময় প্রসূতির জ্ঞান ফেরার আগেই তার কোল থেকে নবজাতক পুত্র সন্তানকে সরিয়ে নেয়া হয় অজ্ঞাতস্থানে। কিন্তু কেনো? কারণ জানতে গেলে পাওয়া যায় সন্তান বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে জ্ঞান ফেরার পর প্রসূতি শ্যামলি ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য বলেন, “আমার এক বোনের সন্তান হয় না, তাই তাকে আমার সন্তান দেয়া হয়েছে”। বোনের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে শ্যামলি কথা ঘোরাতে শুরু করেন। বোনের নাম ঠিকানা বলতে না পারলে তার পার্শ্বে থাকা কয়েকজন এক পর্যায়ে বলেই ফেলেন শ্যামলি যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখনই বাচ্চাটা অন্যকে দেয়া হবে বলে অঙ্গীকার করার বদলে চিকিৎসাসহ যাবতীয় খবর নেয়া হয়েছে। সিজার করানো থেকে শুরু করে সব খরচই করেছে ক্রেতা পক্ষের আল্লাহর দান ফার্মেসির মালিক হুমায়ুন।
সন্তুান কেনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হুমায়ুনের সাথে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। শ্যামলি খাতুনের পিতার বাড়ি দৌলাতদিয়াড় বঙ্গজপাড়ায়। স্বামী সম্পর্কে নানাজনের নানা অভিমত। সে মাঝে একবার তার শ্বশুরের গরু পর্যন্ত বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিছুদিন শ্যামলিকে নিয়ে স্বামী আশিকুর দৌলাতদিয়াড় বঙ্গজপাড়ায় ভাড়ায় বসবাস করলেও পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের আরামপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছে।

গতকাল শ্যামলির সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়ার পর যখন বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হয়, তখন থেকেই আশিকুর কৌশলে চলাচল করে। সন্ধ্যায় তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাতে থাকেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোজাম্মেল হোসেন জানান, এ বিষয়ে তিনার কিছুই জানা নেই। তা ছাড়া এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কমেন্টস