মোটর সাইকেলে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে যুবতীকে ‘গণধর্ষণ’

প্রকাশঃ জুন ২৪, ২০১৭

হাবিব সারোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি-

মোটরসাইকেলে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সুনামগঞ্জ সীমান্তের তাহিরপুর শুক্রবার রাতে পালাক্রমে গণধর্ষণের শিকার হলেন এক যুবতী।

জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের লাউড়েরগড় সীমান্তের উওর মোকসেদপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে গ্রামবাসী শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে উদ্ধার করে গণধর্ষণের বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছে।

ভিকটিম ও উদ্ধারকারী গ্রামবাসীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট দুধের আউটা উত্তর পাড়ার ২২ বছরের এক যুবতী লাউড়েরগড় সীমান্তের হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)এর আস্থানা এলাকায় শুক্রবার দুপুরে বেড়াতে ও আস্থানা জিয়ারত করতে আসে। উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের উত্তর মোকশেদপুরের শাহজাহান মিয়ার ছেলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর (১৯) বিকালে ওই যুবতী বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে যাত্রী হিসাবে মোটরসাইকেল উঠায়। মোকাম এলাকা থেকে কিছুদূর মোটরসাইকেল চালিয়ে আসার পর মুঠোফোন জাহাঙ্গীর মোবাইল ফোনে কল করে তার গ্রামের শাহিন উদ্দিনের ছেলে জাকির (১৯)কে ডেকে নিয়ে এসে তাকেও মোটরসাইকেল উঠিয়ে নেয়।’

কৌশলে ওই যুবতীকে সন্ধার পর ভুল পথে জাহাঙ্গীর ও জাকির তাদের নীজ গ্রামের চাঁন মিয়া নামের এক পাথর শ্রমিকের পতিত ঘরে নিয়ে এসে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক পালাক্রমে যুবতীকে দু’জনই গণধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে ওই যুবতীর চিৎকার শুনে বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াতকারী ওই গ্রামের মুছলিম উদ্দিনসহ গ্রামের বেশ কিছু লোক ঘরের দরজা ভেঙ্গে বিবস্ত্র অবস্থায় ধর্ষণের শিকার যুবতীকে উদ্ধার করে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী উপজেলার উত্তর মোকসেদপুরের মুছলিম উদ্দিনসহ একাধিক গ্রামবাসী রাতে জানান, ‘যুবতীকে উদ্ধার করার সময় চাঁনমিয়ার পতিত ঘর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় জাহাঙ্গীর ও জাকির ঘরের বেড়া ভেঙ্গে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্যের মুঠোফোনে ভিকটিমের সাথে শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে আলাপকালে ভিকটিম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমায় ভুল পথে নিয়ে আসার পথে বাঁধা দিলে জাহাঙ্গীর ও জাকির জানায় সড়ক ভাঙ্গাছোড়া থাকায় লাউড়েরগড় বাজার গুড়িয়ে অন্য পথে (ভাল সড়কে) তাকে বাড়ি পৌঁছে দেবার কথা বলে গ্রামের এক নির্জন পতিত ঘরে আটকে রেখে ওই দু’যুবক আমাকে জবাই করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রাতে কয়েকদফা পালাক্রমে ধর্ষণ করার এক পর্যায়ে লোকজনের যাতায়াত শুনে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী ঘরের দরজা ভেঙ্গে আমাকে উদ্ধার করেন।’

ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা শুক্রবার রাতে সোয়া ৫টার দিকে বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই অমানবিক, থানার ওসি, বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে ঘটনা সম্পর্কে রাতেই অবহিত করা হয়েছে, সকালে ওই যুবতীকে পুলিশের নিকট সমঝিয়ে দেয়া হবে।’

এ ঘটনায় ভিকটিম ও উদ্ধারকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত উপজেলার উওর মোকসেদপুরের মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ০১৭৯০-৭৩১২৯৭ ও অপর অভিযুক্ত জাকিরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ০১৭৪৯-৫৬৩২৯১ এ দুটি নাম্বারের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলে দুটি নাম্বারই বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।’

তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তপন কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে রাতেই জানতে পেরেছি, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ঘটনাস্থলে গ্রামবাসীর হেফাজতে থাকা ভিকটিমকে রাতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, আজ শনিবার সকালে ভিকটিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তার বক্তব্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থধা নেবেন থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মহোদয়।

কমেন্টস