মাগুরার নতুন বেইলী ব্রিজে যান চলাচল শুরু

প্রকাশঃ জুন ২২, ২০১৭

শামীম খান, মাগুরা প্রতিনিধি-

মাগুরার সীমাখালীতে চিত্রা নদীর ওপর স্থাপিত নতুন বেইলী ব্রিজে যান চলাচল শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে যান চলাচলের জন্য দুই লেনের এই বেইলি ব্রিজের পশ্চিম দিকের লেনটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত মালবাহী দুটি ট্রাক পারাপারের সময়ে সীমাখালীর চিত্রা নদীর পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে গত প্রায় সাড়ে চার মাস মাগুরা-খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ে জনভোগান্তি। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভেঙ্গে পড়া ব্রিজের অদুরে দুই লেনের বিকল্প বেইলী ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা থেকেই ব্রীজের এক লেনের ওপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ ছোট খাটো যান চলাচল করছে। ঈদের আগেই নতুন বেইলী ব্রিজের দ্বিতীয় লেনের কাজ শেষ হবে বলে মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী নূরুন নবী তরফদার জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী নূরুন নবী তরফদার জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি সীমাখালীতে পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়লে দ্রুত বিকল্প বেইলী ব্রিজ নির্মাণের জন্য ওই মাসেই টেন্ডার আহবান করা হয়। ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ পায় এইচ এন্ড আর জেবিসি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রিজটি নির্মাণের সময় কাল ছিল ৬ মাস। কিন্তু জন ভোগান্তী কমাতে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেয়া হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই এটিতে যান চলাচল সম্ভব হয়েছে। তবে এটিতে অতিরিক্ত মালবাহী যান চলাচলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এটি দিয়ে আপতত যাত্রী বাহি বাস ও ছোট খাট যান বহন চলাচল করতে পারবে। সীমাখালিতে বড় ধরনের স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাপ্তরিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার রানা আমীর ওসমান জনান, জনভোগান্তী নিরসনে শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে দ্রুত সময়ে এটির কাজ শেষ করেছেন। ঈদের আগেই ব্রিজের দুটি লেনই চালু হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচল উন্মুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রুহল আমীন, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুন নবী তরফদার, সহকারি পুলিশ সুপার কনক কান্তি দাস, শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার দে, শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হোসেন, ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিমলেন্দু শিকদার, তালখড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মন্ডল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত,১৩ ফেব্রুয়ারি সীমাখালি ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ার পর থেকে ঢাকা থেকে খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারি যানবহনগুলোকে মাগুরা-সীমাখালী- যশোরের ৪৬ কিলোমিটারের সড়কের বদলে ঝিনাইদহ হয়ে ২৭ কিলোমিটারের অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছিল।

Advertisement

কমেন্টস