পার্বত্য অঞ্চলে নেই ভূমি ধসের পূর্বাভাস যন্ত্র

প্রকাশঃ জুন ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যে পাহাড়ের ভূমি ধস একটি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলেও ভূমি ধসের পূর্বাভাস দিয়ে প্রাণহানি কমানোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ফলে পাহাড়ে ভূমি ধসে এ বছর প্রাণহানি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এর জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দায়ি করছে ভূতত্ব জরিপ অধিদপ্তরকে। আর ভূতত্ব অধিদপ্তর বলছে পার্বত্য তিন জেলার কোনটিতেই নেই ভূমি ধসের পূর্বাভাস যন্ত্র।

পাহাড়ের ভূমিধসের প্রাণহানির সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ হিসেবে রয়েছে ভূমিধসের পূর্বাভাসের ব্যবস্থা। এমন ব্যবস্থা থকলেও কোন রকম আভাস পায়নি পাহাড়ে বসবাস করা মানুষ।

এ সম্পর্কে পাহাড়ে বসবাস করা এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের মাইকিং করেও কেউ বলেনি বৃষ্টির জন্য পাহাড় ধস হতে পারে। আর এমন ভাবে যে পাহাড় ভাঙ্গবে তা আগে নিজেরাও বুঝতে পারিনি।’ অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান যেসব স্থানে র্পূবাভাস পৌঁছেছে তাদের অধিকাংশই নিরাপদ স্থানে যেতে পেরেছিলো। আর যারা পায়নি তাদের অনেকেই মাটি চাপায় জীবন হারিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন কয়দিন আগে ঘূর্ণিঝড় মোড়ার মোকাবেলায় যে তৎপর দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর যে ব্যবস্থা নিয়েছিলো তার বিন্দু পরিমান দেখা যায়নি ভূমিধসের র্পূবাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে।

এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, মানুষকে সচেতন করে নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিবাদলের সময় নিরাপদ স্থানের নিয়ে যাওয়া জন্য যথাযথ ব্যবস্থা এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমলে নিতে পারেনি। এদিকে দূর্যোগ মোকাবেলা অধিদপ্তর বলছেন, শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার পূর্বাাভাস দেওয়া হয়েছিলো। এ সম্পর্কে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক এম খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘পাহাড় ধসের মত দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়ার মত ব্যবস্থা আছে। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিলো। তবে রাঙ্গামাটি ও আশেপাশের পার্বত্য অঞ্চল উল্লেখ করে বলা হলে এত পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হতো না।’

তবে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দায় চাপাচ্ছেন ভূতত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের দিকে। এ সম্পর্কে ভ-ূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক রেশাদ মুহাম্মদ ইকরাম আলী বলেন, ‘চট্টগ্রাম , কক্সবাজার ও টেকনাফে পূর্বাভাস দেওয়া গেলেও রাঙ্গামাটি সহ তিন পার্বত্য জেলার পূর্বাভাস দেয়ার ক্ষমতা আমাদের নইে। তবে সেই ধরনের যন্ত্র যদি আমাদের থাকতো তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমে আসতো।’

এদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে পূর্বাভাসের জন্য ল্যান্স লাইট আর্লি ওয়ানিং যন্ত্র বসানো হয় ২০১০ সালে। তবে এখনও তিন পার্বত্য অঞ্চলে বসানো হয়য়নি কোন পূর্বাভাস যন্ত্র।

কমেন্টস