ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের ২৬ কোটি টাকার কাজে ২০ কোটিই গায়েব!

প্রকাশঃ জুন ৪, ২০১৭

জাহিদ তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কে সাইড সম্প্রসারণের কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সড়কে পরিবহন চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সড়কের পাশে ৬ ফুট করে ৪.৭০০ মিটার সড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে যার বরাদ্দ ২৬ কোটি টাকা। এই কাজে সড়কের পাশে ৬ ফুট প্রসস্ত ২৪ ইঞ্চি গভীর করে সেখানে ১২ ইঞ্চি বালি, ১০ ইঞ্চি ইট বালি দিয়ে পুরণ করতে হবে। সেখানে ইটবালির এই স্তরে ইটের খোয়া ৩ ঝুড়ি আর বালি হবে ১ ঝুড়ি দেওয়ার নিয়ম। যেখানে ১০ ইঞ্চি না করে ৬ ইঞ্চি করা হচ্ছে আর অর্ধেক ঝুড়ি ইটের খোয়া দিয়ে সাড়ে ৩ ঝুড়ি বালি বাদে মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এখানে ১২ ইঞ্চির বালির স্তরে ১৬ ইঞ্চি বালু পড়ছে। যা সড়কের কাজের সঠিক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। হিসাব করলে দেখা যাবে গড়ে ৫/৬ কোটি টাকার কাজ করেছে। বাকি প্রায় গায়েব ২০ কোটি টাকা।

সুত্রে আরো জানা গেছে, এইভাবে কাজ করে ঠিকাদারের সাথে লাভের টাকা ভাগ করে নেয়। এ ভাবেই চলছে তার কোটি কোটি টাকার লুটপাট দেখার যেন কেউ নেই।

ঝিনাইদহ জেলার মহাসড়ক ও সড়কগুলিতে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় ফলে চলছে লাশের মিছিল। অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে চিরকালের জন্য। এই দুর্ঘটনাকে এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনের কথা চিন্তা ভাবনা করেই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছিল বর্ষা শুরুর আগেই ঝিনাইদহ জেলার সকল সড়ক মহাসড়কের উপর সৃষ্ট ছোট্ট বড় গর্তগুলো মেরামত করে পরিবহন চলাচলের যথাযথ উপযুক্ত করা। কিন্ত সরকারের সেই নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধা আগুলি প্রদর্শন করে মেরামতের সেই বরাদ্দকৃত অর্থ পুরাটায় লুটপাট করে নিজ পকেটে পুরেছে সেলিম আজাদ খান।

ইতিমধ্যে ২১/০৫/২০১৭ তারিখে যশোর সওজ তত্ববধায়ক প্রকৌশলী সড়ক সার্কেল পুনরায় মেরামতের জন্য নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সেলিম আজাদ খানের কাছে। আগেও এই প্রকৃতির নির্দেশনা প্রদান করার পরও তার কোন মাথা ব্যথা নেই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বিভাগীয় বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করলে দেখা গেছে যে সড়কগুলোর বিভিন্ন কি.মিতে বিশেষ করে জাতীয় সড়কে এন ৭ ও এন-৭০২ সমূহে অসংখ্য পটহোলস ও ডিপ্রেশণের সৃষ্টি হয়েছে। যার জন্য খুলনা বিভাগের সওজ পথের মাসিক পর্যালোচনা সভায় আলোচনায় খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুলনা জনের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এই বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন ঠিকাদারের নামে আর.এফ.কিউ ও ডি.পি.এম করে নিজেই বিল উঠিয়ে নিয়েছে।

এই ব্যাপারে ঝিনাইদহ সওজয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সেলিম আজাদ খানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘৪.৭০০ মিটারের জন্য কত টাকা বরাদ্দ এবং কি ভাবে কাজ করতে হবে তাহা তার খেয়াল নেই বলে জানান এবং বলেন আমি অফিসে গিয়ে জানাতে পারব।’

অফিসে যাওয়ার পর ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি কাজে ব্যাস্ত আছি আপনারা রবিবারে আমার সাথে অফিসে এসে দেখা করেন।’

Advertisement

কমেন্টস