সাগরে ভাসছে শতশত ট্রলার, ভয়াবহ আতঙ্কে স্বজনরা

প্রকাশঃ মে ২৯, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আরও উত্তর দিকে সরে বাংলাদেশ উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৫ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

গভীর সমুদ্রে শতশত মাছধরা ট্রলার থাকায় জেলেদের পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হঠাৎ আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় এবং গভীর সমুদ্রের নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড় মোরায় রূপ নেয়ায় সাগরে থাকা জেলে ও ট্রলার নিয়ে চিন্তায় পড়েছে উপকূলীয় ট্রলার মালিকরা।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, ‘হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ এবং গভীর সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় সুন্দরবন, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর কাছাকাছি ট্রলারগুলোতে আবহাওয়ার খবর পাঠাতে সক্ষম হলেও সাগরে থাকা জেলেদের আগাম কোনো খবর দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ট্রলারগুলো নিরাপদে আসতে পারেনি। এ কারণে সাগরে থাকা অন্তত ৪ শতাধিক ট্রলার ও জেলেদের নিয়ে শঙ্কিত আমরা।’

বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মান্নান মাঝি বলেন, ‘৩ থেকে ৪ দিনে অন্তত ৪ শতাধিক ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে গেছে। আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হওয়ায় এখনো কোনো ম্যাসেজ দিতে পারিনি।’

অরপদিকে, ঘূর্ণিঝড় পূর্ব প্রস্তুতি সভা আহ্বান করেছে পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেল ৪টায় পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলার সিপিপির টিম লিডার অলিউল ইসলাম বাবুল বলেন, প্রান্তিক জনপদে মাইকিং করা হচ্ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. কামরুল হুদা বলেন, বিকেল ৪টায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে আমরা সতর্ক আছি।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আয়োজিত জরুরি বৈঠকে জানানো হয়, উপকূল থেকে সোমবার (২৯ মে) বিকেল থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হবে। এজন্য ৫৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনও প্রস্তুত রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের ৬ হাজার ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক ৪১৪টি ইউনিটে বিভক্ত কাজ করবে।  ৮৮টি মেডিকেল টিম তৈরি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

কমেন্টস