মহাসড়কের উপর ইট, বালি, কাঠ: দুর্ঘটনা আতঙ্কে পাটকেলঘাটাবাসী

প্রকাশঃ মে ২৪, ২০১৭

ইলিয়াস হোসেন, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি-

পাটকেলঘাটায় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ও কুমিরা কদমতলা টু কেশবপুর সড়কের দুধারে ইট, বালি, কাঠ রাখায় জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটেছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাটকেলঘাটা হারুন অর রশিদ কলেজ হইতে মির্জাপুর বাজার এবং কুমিরা কদমতলা থেকে কেশবপুর সড়কের দাদপুর হায়দার ব্রিকস্ পর্যন্ত সড়কে ৫ কিলোমিটার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের দুই ধারে দুইটি কলেজ, ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি মাদ্রাসা, ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদরদপ্তরসহ তিনটি ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে পাটকেলঘাটা, কুমিরা, মির্জাপুর, মেলেকবাড়ি, সেনপুর বাজার অবস্থিত হওয়ায় এই সড়কের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রতিদিন এই ৫ কিলোমিটার মহাসড়ক দিয়ে কমপক্ষে ৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী, কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কতিপয় দুস্কৃতিকারী মহাসড়কের জায়গা দখল করে ইট, বালি, কাঠ, অবৈধ নছিমন করিমন স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে। যার ফলে যানবাহন চলাচলসহ শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যাতায়তে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সড়কের কোল ঘেষে ৭টি স’মিল ও কয়েকশত কাঠ ব্যবসায়ী নিয়মনীতি না উপেক্ষা করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় কাঠ রেখে দিদারসে ব্যবসা করছে। সেই সাথে সবুজ এন্টারপ্রাইজ, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, আবু সাঈদ, খোকন, আয়ুব আলী, গণি মেম্বর, আক্তারুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আজিবর নামের কতিপয় ব্যক্তিরা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে জনস্বার্থ খর্ব করে থানার বলফিল্ড মোড়, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মোড়, কুমিরা বাজার, কদমতলা, বাজার মোড়, মির্জাপুর বাজার, মেলেকবাড়ি সড়কের উপর ইট, বালি, কাঠ রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এই বিষয়ে মেলেকবাড়ি বাজারে কাঠ ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান যে, ‘ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমিসহ অন্যান্য কাঠ ব্যবসায়ীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের সুপারভাইজারকে প্রতিমাসে মশোয়ারা দিয়ে ব্যবসা করছি।’

পথচারী দাদপুর গ্রামের সামাদ আলী বলেন, ‘যেভাবে রাস্তার দু’পাশে কাঠ, ইট রাখা হয়েছে এতে করে রাস্তার চলাচল করতে ভয় হয়। বলা যায় না কখন কি ঘটতে পারে।’

কলেজের ছাত্র তরিকুল, হাবীব, শাহিন বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের জীবনের রিক্স নিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তার পাশে যেভাবে কাঠ, ইট, বালি রাখা হয়েছে তাতে করে একটি যানবাহন আসলে আমাদের সাইড দিতে সমস্যা হয়। এই সবের কারণে প্রতিনিয়ত এই সড়কে দুর্ঘটনা লেগেই আছে।’

এই বিষয়ে পাটকেলঘাটার ৪নং কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘অচিরেই সড়কের দু’পাশে দখলদার ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা না হলে যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।’

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সেলফোনে বারবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Advertisement

কমেন্টস