সাফাতকে নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক স্ত্রী পিয়াসা

প্রকাশঃ মে ১০, ২০১৭

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে ধর্ষিত দুই তরুণীর করা মামলার আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমদের ছেলে সাফাত আহমেদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়ে মুখ খুললেন তার সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।

এশিয়ান টিভির সাবেক পরিচালক ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা জানান, বেশ কিছুদিন প্রেমের পর ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি সাফাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরই পরিচিত এক বড় ভাই বলেছিল, সাফাত ইয়াবা খায়। ওকে বিয়ে করা ঠিক হয়নি। বিয়ে হয়ে গেছে দেখে ওই সময় আর কথা বলিনি।

পিয়াসা বলেন, ‘ইয়াবা আসক্ত সাফাত ও তার বন্ধুরা বনানীর এক রেস্তোরাঁয় নিয়মিত নেশার আসর বসাতেন। ওই হোটেলের ‘যে কোনো ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলেই’ তাদের কর্মকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যাবে।’ তিনি জানান, ‘জন্মদিনের আগে ওরা সবাইকে বলেছিল উদযাপন করতে বন্ধুরা মিলে সিলেট যাবে। একটা ক্রাইম করবে বলেই সবাইকে মিথ্যা বলেছিল।’

পিয়াসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলার আরেক আসামি নাইম আশরাফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ইমেকার্সে কাজ করতেন। তিনিও ইয়াবায় আসক্ত। আর সাদমান সাকিফ বড় ভাই হিসেবে দেখত সাফাতকে। সে ইয়াবা খেত না।

পিয়াসা জানান, গত ৮ মার্চ হঠাৎ বিয়ে বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে ভারতে চলে যান সাফত। সাফাত আমাদের ডিভোর্সের কথা কাউকে বলত না। আমার বিরুদ্ধে অনেক মেয়েকে খারাপ কথা বলে তাদের মনোযোগ কাড়তে চাইত। এদিকে বিচ্ছেদের এক মাস পার হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর  সঙ্গেও পরিচয় ছিল পিয়াসার। ধর্ষণের ঘটনার পর তাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে বলেও জানান তিনি। পিয়াসা বলেন, ‘ধর্ষণের পর ভিকটিমরা আমাকে বলেছে, ওই রাতে বারবার ইয়াবা খেয়ে ওরা ধর্ষণ করেছে… গালাগাল করেছে… মারধর করেছে… ভিডিও করেছে। ওরাও আমাদের ডিভোর্সের কথা জানত না’।

তিনি জানান, গত ৭ মার্চ গুলশানের আমরি রেস্তোরাঁয় এক অনুষ্ঠানে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে সাফাতের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সাদমান সাকিফ। ওই অনুষ্ঠানে তিনিও ছিলেন। এর পরদিন কিছু না বলেই সাফাত ‘ডিভোর্সের কাগজ’ পাঠিয়ে ভারতে চলে যায়। সেখানে এক মডেলের সঙ্গে মদ খাচ্ছে- এরকম একটা ভিডিও প্রকাশ পায়। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নেই, ‘ওর সঙ্গে থাকা সম্ভব না’। এরপরও চেষ্টা করেছি, ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ওর একটা গাড়ি আমাদের বসুন্ধরার বাসায় ছিল। সাফাতের বাবা পুলিশ দিয়ে ওই গাড়ি নিয়ে যায়।

তিনি জানান, তাদের বিয়ের পর সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। বিয়ের পর আমাকে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছিল ওর বাবা। তখন সাফাত ভাটারা থানায় জিডি করে।

ধর্ষণ মামলার এজাহারে পিয়াসাকে বাদীর খালাতো বোন লেখা হলেও তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন এই টেলিভিশন উপস্থাপক। তার অভিযোগ, এর পেছনে সাফাতের বাবার হাত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভিকটিমরা আমার সম্পর্কে কিছুই বলেনি। এখন সাফাতের বিরুদ্ধে যখন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, বনানী থানার ওসিকে দিয়ে ওর বাবা কৌশলে আমার নামটা বসিয়ে দিয়েছে। যখন আমার পাওনা (বিচ্ছেদ সংক্রান্ত) নিয়ে কথা বলার কথা, তখন আমার অন্যের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে হচ্ছে।

পিয়াসা বলেন, সাফাতের বাবা মেয়েগুলোকে (ভিকটিম) খারাপ বলার চেষ্টা করছে। ওরা খারাপ হলে তো টাকা নিয়ে চুপ থাকত। ঘটনার পর ওদের এক মাস থ্রেট করা হয়েছে, যেন তারা ওদের সঙ্গে আবারও হোটেলে যায়, তা না হলে ভিডিও ছেড়ে দেবে।

পিয়াসা আরও জানান, আগেও একবার বিয়ে করেছিলেন সাফাত। আগের সেই স্ত্রী এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সব কিছু ভুলে তাকে বিয়ে করেছিলাম। অথচ বিয়ের পর আমাকে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এখন পথে বসাতে চলেছে।

উল্লেখ্য, এই মামলার বাদী ভুক্তভোগী তরুণী তার বান্ধবীসহ গত ৬ মে বনানী থানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্ব পরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়।এরপর তারা তরুণী ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। আর সাফাত ও নাঈমের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়েছিল পূর্ব পরিচিত বন্ধু সাদমান সাকিফ। সেদিন সাকিফের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই অভিযুক্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং সাকিফ তাদেরকে সেখানে ফেলে চলে আসেন বলেও জানান এই তরুণী।

Advertisement

কমেন্টস