মুক্ত জীবন কাটাচ্ছে ধর্ষণকারীরা, পুলিশের তত্ত্বাবধানে ‘বাসায় বন্দি’ দুই তরুণী

প্রকাশঃ মে ৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

রাজধানীর বনানীতে দ্য রেইন ট্রি হোটেলে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় মামলা করার পর স্বাভাবিক জীবনের বদলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে নিজ বাসাতেই অনেকটা বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন দুই তরুণী। অপরদিকে গ্রেফতার না হওয়া ধর্ষণকারীরা মুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা দুই তরুণীর মধ্যে একজন।

মঙ্গলবার এই প্রতিবেদকের কাছে এসব কথা বলেন ধর্ষণের শিকার এক তরুণী। অন্যদিকে ধর্ষণ মামলার আসামি প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের এখনো পুলিশ গ্রেফতার না করায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

পুলিশের ভূমিকা দেখে আসামিদের আদৌ গ্রেফতার হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান ওই তরুণী। এদিকে মামলার পর থেকে তারা কোথাও বের হতে পারছেন না তারা।

ঐ তরুণী আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ধর্ষকরা ক্রমাগত অনুসরণ করায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় নিরুপায় হয়ে তারা মামলা করেছেন। কিন্তু মামলার পর তাদের স্বাভাবিক জীবনই বদলে গেছে। পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও বাসা হতে বের হতে পারছেন না তারা, জানান ওই তরুণী।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঐ তরুণী বলেন, প্রথমে বনানী থানায় মামলা করতে গিয়ে পুলিশের অসহযোগিতা পেয়েছেন তারা। মামলা গ্রহণ করতে রাজি না হয়ে নানা বিব্রতকর প্রশ্ন করেছিল পুলিশ। এখন মামলার পরেও আসামিদের তারা গ্রেফতার করছে না।

উল্লেখ্য, এই মামলার বাদী ভুক্তভোগী তরুণী তার বান্ধবীসহ গত ৬ মে বনানী থানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্ব পরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়।এরপর তারা তরুণী ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। আর সাফাত ও নাঈমের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়েছিল পূর্ব পরিচিত বন্ধু সাদমান সাকিফ। সেদিন সাকিফের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই অভিযুক্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং সাকিফ তাদেরকে সেখানে ফেলে চলে আসেন বলেও জানান এই তরুণী।

Advertisement

কমেন্টস