ধর্ষণের পর দুই তরুণীকে যেসব ‘প্রস্তাব’ দিয়েছিল সাদমান

প্রকাশঃ মে ৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে আলোচিত সেই ধর্ষণের ঘটনার পর দুই তরুণীকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল ধর্ষণকারীরা। এমনকি আপসের জন্য তাদের বিভিন্ন ধরণের প্রস্তাবও দিয়েছিল ধর্ষণকারীরা। কিন্তু ঐ দুই তরুণী আপসের জন্য করা প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

মঙ্গলবার (৯ মে) মামলার মূল বাদী ও ধর্ষণের স্বীকার দুই তরুণী প্রতিবেদককে এসব কথা জানান। এদিকে মামলার মূল বাদী জানান, আমি বিষয়টি নিয়ে আগেই কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভয়ে পারিনি। ঘটনার পর তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পিকাসো রেস্টুরেন্টেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তাদেরকে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ধর্ষণ মামলার এই বাদী বলেন, নানাভাবে আমাকে বলা হয়েছে ২৮ মার্চের ঘটনা নিয়ে কাউকে কিছু জানালে আমাদের আরও খারাপ হবে। তিনি বলেন, সাকিফের মাধ্যমেই সাফাত এবং নাঈমের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। সাকিফকে দিয়েই ওরা আমাদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করেছে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনার পর গত ৩১ মার্চ অনলাইন যোগাযোগ অ্যাপ্লিকেশন ভাইবারে মামলার তিন নম্বর আসামি সাদমান সাকিফের সঙ্গে কথোপকথনের কথা বাদী নিজেই এ প্রতিবেদককে জানান।

সেই কথোপকথনে সাকিফ বাদীকে বলেন, ‘এসব কথা বলে কী লাভ? কারও কিছু হবে না।’ তখন বাদী তাকে উত্তরে বলেন, ‘আমি বের হতে চাচ্ছিলাম। তোমার সামনেই আমাদের বন্ধুর গাড়ির চাবি আটকে রেখেছে।’

সাকিফ তখন বাদীকে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য বলে, তা নাহলে সবার আরও সমস্যা হবে বলেও ঐ কথোপকথনে লিখেন সাকিফ। বাদী তখন সাকিফকে বলেন, ‘তুমি এসব নিজের চোখে দেখেছো। সবার সমস্যা হয় হোক। কিন্তু ওর শাস্তি পেতেই হবে। আমি ওদের কাউকে ব্লাকমেইল করছি না।’

সাকিফ তখন তাকে বলে, ‘তুমি একটা মেয়ে, তোমার সামনে লাইফ আছে।’ বাদী তখন তার কাছে জানতে চান, ‘ওরা কেন মিথ্যা বলতেছে?’ সাকিফ তখন ধর্ষকদের পক্ষে সাফাই গেয়ে তাকে বলে, ‘যা হইছে নিজেদের মধ্যে রাখো, তোমার ফিউচারে বিয়ে করতে হবে, হবে আমাদের সবার।’

বাদী তখন সাকিফকে বলে, ‘আমাদের সঙ্গে ওরা যা করেছে সেটা আরও অনেক মেয়ের সঙ্গেই করতে পারে।ওরা আমাকে বের হতে দেয়নি।’ সাদমান সাকিফ ‘তখনও বলে, সবার প্রব্লেম হবে।’ কিন্তু সেই কথোপকথনে বাদী সাকিফকে বলে, ‘কিন্তু সেদিনের ঘটনা তুমি তোমার নিজের চোখেই দেখেছো।আর প্রব্লেম হোক, কিন্তু ওকে শাস্তি পেতে হবে।’

সাদমান সাকিফ তখন লেখেন, ‘তোমার কী মনে হয় না, উনি আরও খারাপ কিছু করবে, এইসব বলে তাকে ক্ষেপালে?’ বাদী তখন লেখেন, ‘সাকিফ, খারাপ কিছু আর কী করবে আমার? যা করার করছে, মাইরা ফেলুক, কিন্তু আমি আর থামবো না।’

এতোদিন পর মামলা করার বিষয়ে বাদী বলেন, আমাদেরকে নানাভাবে ওরা হুমকি দিয়ে আসছিল। সেদিনের ঘটনা যদি সবাইকে জানাতাম তাহলে পরিবার বিব্রত হতো, ভেবেছিলাম আমাদের যা হওয়ার হয়েছে কিন্তু যখন তারা ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার কথা জানায় তখনই আমরা আইনের আশ্রয় নেই।

এদিকে গতকাল ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন গিয়ে বাদী বলেন, ‘তাকে নিয়ে প্রথমেই আমি ছাদে গিয়েছি, যেখানে যেখানে যা যা হয়েছে সব দেখিয়েছি। যেখান থেকে দাঁড়িয়ে ড্রাইভার বিল্লাল ভিডিও করিয়েছে সেটাও দেখিয়েছি।’

সেদিন আমি কাঁদছিলাম আর বান্ধবীর কান্না শুনছিলাম, কতোটা অসহায় আমি। আমি কতোটা গিল্টি ফিল করছি আমি বলতে পারবো না। বলতে পারবো না আমাদের ঐ রাতটা কেমন করে গিয়েছে। আমি আমাকে বাঁচাতে পারিনি, পারিনি বন্ধুকে বাঁচাতে। সারাজীবনের জন্য বন্ধুর কাছে অপরাধী হয়ে রইলাম আমি বলেও জানান বাদী।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে সাফাত আহমেদ নামে এক বন্ধুর জন্মদিনে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন দুই তরুণী। তাদের অভিযোগ, সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধুদের যোগসাজশে অস্ত্রের মুখে তাদের ধর্ষণ করা হয়।ওই ঘটনার ৪০ দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন তারা। মামলা নং- ৮। মামলায় সাদনান সাকিফ, তার বন্ধু সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও তার দেহরক্ষীকে (নাম পাওয়া যায়নি) আসামি করা হয়েছে।

 

 

কমেন্টস