বনানীর হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ, আসামিদের বিদেশে পালানো ঠেকাতে ‘সতর্ক’ পুলিশ

প্রকাশঃ মে ৮, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীর বনানীতে চার তারকা হোটেলে বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচ আসামির বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সতর্ক রয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত শনিবার বনানী থানায় মামলাটি দায়েরের পর এখনও পাঁচ আসামির কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকায় জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণে জড়িতদের আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতারে বনানী থানা পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবির উপ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচ আসামির একজন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ (২৬)। আরেক আসামি সাদমান সাকিফ (২৪) পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিকের ছেলে। ঘটনার সঙ্গে দুই প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান জড়িত থাকায় আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে নানা ধরণের তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও পুলিশের দাবি তারা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। আসামিরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

গত ২৮ মার্চ দ্য রেইন ট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ করে ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার এক সপ্তাহ পর শনিবার রাতে ভুক্তভোগীদের একজন বনানী থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। সাফাত ও সাদমান ছাড়াও ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নাঈম আশরাফ (৩০), সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল (২৬) ও অজ্ঞাতনামা দেহরক্ষী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আবদুল আহাদ বলেন, আসামিরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের গ্রেফতারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রোববার পর্যন্ত তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন বলেন, সাফাত ও নাঈম দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তারা ওই দুই তরুণীর বন্ধু। জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত করে হোটেলে নেওয়ার পর সাফাত ও নাঈম হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর দুই তরুণীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আসামিদের অপর তিনজন ধর্ষণে সহায়তা ও ভিডিও ধারণ করেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী তরুণীদের একজন উল্লেখ করেছেন, ‘আসামিরা ২৮ মার্চ ৯টা হতে পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বনানীর দ্য রেইন ট্রি’ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে আমাকে, আমার বান্ধবী এবং এক বন্ধুকে আটকে রেখে সবাইকে মারধর করে।  অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ করে।

‘আমাকে ও আমার বান্ধবীকে রুমের মধ্যে জোরপূর্বক নেশাজাতীয় মদ্যপান করে আমাকে এক নম্বর আসামি এবং আমার বান্ধবীকে দুই নম্বর আসামি জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে।

‘তিন নম্বর আসামি সাকিফকে দুইবছর ধরে চিনি। তার ম‍াধ্যমে এক নম্বর আসামির সঙ্গে পরিচিত হই। গত ২৮ মার্চ তার জন্মদিন উপলক্ষে এক নম্বর আসামির গাড়িচালক ও দেহরক্ষীকে পাঠিয়ে আমাদেরকে নিকেতন হইতে বনানীর রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়।

হোটেলে ছাদে বড় অনুষ্ঠান হবে বলে আমারদেরকে নেওয়া হয়েছিলো উল্লেখ করে ওই ছাত্রী এজাহারে বলেন, ‘যাওয়ার পর ওরা ছাড়া আর কোনো লোক দেখি নাই। পরবর্তীতে জোরপূর্বক ধর্ষণের সময় গাড়িচালককে ভিডিও করতে বলে সাফাত।’

‘ঘটনার প্রতিবাদের কথা বললে নাঈম আমাকে মারধর করে। পরবর্তীতে আমাদের বাসায় দেহরক্ষী পাঠিয়েছিলো আমাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। এতে ভয় পেয়ে যাই এবং লোক লজ্জা ও মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে বন্ধু, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করতে বিলম্ব হয়।’

Advertisement

কমেন্টস