বাঘ আতঙ্কে মিরপুর এলাকাবাসী!

প্রকাশঃ মে ২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আবুরী গ্রামে মাঝে- মধ্যেই বাঘের দেখা মেলায় আতঙ্কের প্রহর কাটাতে হচ্ছে গ্রামবাসীর। সারাদিনসহ রাতেও বাঘের আতঙ্ক থাকার কারণে মিরপুরবাসীর জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘটি কোথা থেকে কীভাবে লোকালয়ে এসেছিল তা আমরা জানি না। তবে মাঝে মধ্যেই বাঘটিকে ওই এলাকায় দেখা যেতো।

এদিকে লোকালয়ে বাঘটিকে প্রথম দেখে মোমেনা খাতুন। তিনি জানান, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বাড়ির পাশ দিয়ে কী যেনো লাফ দিয়ে দ্রুত চলে গেলো। তারপর আমি চিৎকার শুরু করি। পরে লোকজন এসে দেখে বাঘ।

বাঘটিকে আটককারী আব্দুস সালাম বলেন, ‘মোমেনা খাতুন তার বাড়ির পাশ দিয়ে বাঘটিকে যেতে দেখে চিৎকার শুরু করে। এতে লোকজন জড়ো হলে বাঘটি পাশের পানির পাইপের মধ্যে ঢুকে যায়। সেসময় আমি একটা বস্তা নিয়ে গিয়ে কৌশলে বাঘটিকে বস্তার ভেতরে আটকে ফেলি। তবে আমি আগে জানতাম না যে সেটা বাঘ। আমরা শেয়াল মনে করে বস্তা দিয়ে ধরেছিলাম ‘

বাঘ আটকের সময় প্রত্যক্ষদর্শী স্কুলছাত্র মুন্না বলেন, ‘আমি সকালে স্কুল যাওয়ার পথে বাঘটিকে ধরতে দেখি। তারপর থেকেই আমার মনের মধ্যে কেমন বাঘ বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

অপরদিকে, সোমবার (০১ মে) সকালে আবুরী গ্রামের শহিদুল্লার বাড়ির পাশ থেকে একটি চিতা বাঘকে আটক করে হত্যা করে এলাকবাসী। পরে তারা বাঘটিকে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। বাঘটির দৈর্ঘ্য চার ফুট আর প্রস্থ ১৬ ইঞ্চি।

মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন জানান, ‘এই গ্রামে বাঘ নতুন না। প্রায় রাতেই দেখা যায়। এই নিয়ে এই এলাকা থেকে ৫টি বাঘ মারা হয়েছে।’

মালিহাদ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এএসআই) আলামিন জানান, ‘গ্রামবাসীরা যে বাঘটিকে মেরেছে সেটা চিতা বাঘ। মৃত বাঘটিকে মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Advertisement

কমেন্টস