গ্রেফতারি পরোয়ানায় কুমিল্লা সিটি মেয়র সাক্কুর আত্মগোপন

প্রকাশঃ এপ্রিল ২১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সম্পদ গোপনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার পর থেকেই আত্মগোপন করেছেন। সাক্কুর ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন এবং স্ত্রীর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া তার কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড়ের বাড়িতে গিয়েও তার সন্ধান মিলছে না।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার চিঠি ডাকযোগে কোতোয়ালি থানায় পৌঁছেছে। এখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কাজ করবে।

তবে এই মামলায় সাক্কু আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী কবির।

ঢাকা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল বলেন, মেয়র সাক্কুকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত থেকেই জামিন নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এর আগে এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে সাক্কু জামিন নিয়েছেন, এ বিষয়ক একটি ফটোকপি মামলার নথিতে আছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় থাকার কথা সেভাবে নেই। তাছাড়া জামিন পেলে আদালতে আর আসতে হবে না এমন নির্দেশনা নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাক্কু জামিনের সঠিক ব্যবহার করতে পারেননি। তাকে এখন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত থেকেই জামিন নিতে হবে। আদালত যদি জামিন না দেন তাহলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।’

সাক্কুর ভাই আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন বলে সরকারি অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল যে অভিযোগ করেছেন তা হলফনামায় ওই মামলার তথ্য ও ফলাফল দেওয়া আছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও আছে হলফনামা। চাইলে যে কেউ দেখতে পারে। এখানে তথ্য গোপনের অভিযোগ সঠিক নয়।’

এদিকে সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কুমিল্লার জনসাধারণের মধ্যে। অনেকেই মনে করেন এর পেছনে আছে রাজনৈতিক কারণ। সাক্কু সিটি করপোরেশনে থাকলে তার উন্নয়নমূলক কাজগুলো সমান গতিতে চলার সম্ভাবনা ছিল, তবে তা এখন অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের আগে সাক্কুও মিডিয়াকে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তাকে যেন মামলা দিয়ে হয়রানি না করা হয়।

সাক্কুর আত্মগোপনের ব্যাপারে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তিন দিন ধরে মেয়র সাক্কুর সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। তবে আমি জেনেছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি উচ্চ আদালতে রিট করবেন।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র সাক্কু বিএনপি সমর্থিত হয়েও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এজন্য সরকার ষড়যন্ত্র করে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’

এ ঘটনায় জেলা বিএনপি কোনও পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে আলহাজ জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা রাবেয়া চৌধুরী ও আমিনুর রশীদ ইয়াসিনসহ সব নেতাকর্মীর আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সাক্কু ভাইয়ের বাসভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সদস্য আসেনি, তাকে কোনও ধরনের হয়রানি করা হয়নি। মামলাটি আইনজীবীদের মাধ্যমে আগামী ২৩ এপ্রিল আদালতে পেশ করা হবে।’

Advertisement

কমেন্টস