মুরাদনগরে জোড়া হত্যা মামলার ২ আসামি রিমাণ্ডে

প্রকাশঃ এপ্রিল ২১, ২০১৭

আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা প্রতিনিধি-

মুরাদনগরের আনিস ও ফারুককে কুপিয়ে হত্যা মামলার দুই আসামি আনিস ও খোকনের বিরুদ্ধে ২ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১০ জনের মধ্যে ফারুক মিয়া পুলিশি প্রহরায় কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ৯ আসামিকে কুমিল্লার আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এজহার নামীয় আসামি রহিমপুর গ্রামের আলেক মিয়ার ছেলে আনিস মিয়া ও কুদ্দুস মিয়ার ছেলে খোকন মিয়াকে ২ দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করে বাকী ৭ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। এদের মধ্যে রিমাণ্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন-উপজেলার রহিমপুর গ্রামের আলেক মিয়ার ছেলে আনিস মিয়া (২৯), কুদ্দুস মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (৪৫)।

কারাগারে প্রেরণ করা আসামিরা হলেন মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে কনু মিয়া (৩২), হাবিল মিয়ার ছেলে দুর্ভাজ ওরফে খোকন মিয়া (৩৬), জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোমেন মিয়া (২৩), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আমজাদ হোসেন মোল্লা (৩৬), হোসেন মিয়ার ছেলে সুজন ওরফে সুমন মিয়া (২৩), মৃত রুক্কু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৪), জয়নাল আবেদীনের ছেলে কামরুল হাসান (২২) ও বজলু মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (২২)।

প্রসঙ্গত, ১৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও বালুব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হচ্ছে, মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র ফারুক (২৮), একই গ্রামের হানিফ মিয়ার পুত্র সাঈদুল (২৫)। ওই সংঘর্ষে ইউপি সদস্য আশরাফসহ আহত হয়েছে আরও অন্তত ১০ জন। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও বালু ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থক মেম্বার আশরাফুল ইসলাম গ্রুপ বনাম কবির-আলাউদ্দিন- আনিস গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় ১ মাস আগে আশরাফ মেম্বার ১০ কেজি গাঁজাসহ কবির-আলা উদ্দিন-আনিস গ্রুপের অনুসারী একই গ্রামের হুরন মিয়ার পুত্র গাঁজা সাইদুরকে পুলিশে ধরিয়ে দেন, সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেন। এছাড়াও আশরাফ মেম্বার কর্তৃক ৪ দিন আগে গোমতী নদীতে বালু ব্যবসার ড্রেজার স্থাপন নিয়ে ওই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলা উদ্দিন-আনিস গ্রুপের লোকজন আশরাফ মেম্বারের বালু ব্যবসার ড্রেজার কাজে নিয়োজিত কেয়ারটেকার রুবেলকে মারধর করে। খবর পেয়ে সেখানে আশরাফ মেম্বারের ভাতিজা সাঈদুল ইসলাম গেলে আলা উদ্দিন-আনিস গ্রুপের কবির, আনিস, আলা উদ্দিন, আবু মুছা, শাহ আলম, কনু মিয়াসহ অন্যান্যরা সাইদুলকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এ খবর পেয়ে আশরাফ মেম্বার ও তার চাচাতো ভাই ফারুকসহ তাদের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে ফারুককেও হত্যা করা হয়। এ সময় সংঘর্ষে আশরাফ মেম্বারসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিকালে আশরাফুল মেম্বার বাদী হয়ে রহিমপুর- নয়াকান্দি গ্রামের কবির হোসেন (৪৫), আলা উদ্দিন (৩৫), আনিস (২৯), আবু মুছা (২৭), শাহ আলম (৩২), কনু মিয়া (৩২), ফারুক মিয়া (২৩), জাকির হোসেন (৪৫), জাহের মিয়া (৩৪)সহ এজাহার নামীয় ২৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘আনিছ ও খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হলে বিচারক ২ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।’

মুরাদনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম বদিউজ্জামান জানান, ‘পলাতক অপর আসামীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

Advertisement

কমেন্টস