ঢাকায় হাঁটু পানিতে ৪০০ পরিবারের অসহায়ত্ব ,কষ্ট করলে কিছু হবে না কর্তৃপক্ষ !

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০১৭

ইসতিয়াক ইসতি।।

চিত্রটি দেখে মনে হতে পারে এটি বুঝি বুড়িগঙ্গার কোন খাল। যেখাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ট্যানারির ময়লা। কিন্তু চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। রাজধানী মোহাম্মদপুরের ৩৪ ওয়ার্ডের হোসেন সাহেবের গলি, বাবরী মসজিদ, বুদ্ধিজীবী ১ ও ২ নং রোডগুলো সুয়ারজে লাইনের পানিতে হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত ৩০০-৪০০ টি পরিবার।

জনপ্রতিনিধি ও সিটি করপোরশেনরে সমন্বয়হীনতার দৃশ্যত এ সমস্যার সৃষ্টি। ২০১৫ তে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এই এলাকার মানুষগুলো। কিন্তু দেখেও দেখার নেই কেউ। গেল ৬ মাস রাস্তা সংকারের কাজ শুরু হলেও তা চলছে ধীর গতিতে।

সরজমিনে দেখা যায়, বাবরী মসজিদ, বুদ্ধিজীবি ১ নং রোডের  মাঝে হাঁটু পানি জমে আছে। যাতে করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ির  শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধ অবস্থায় জীবন যাপন করছে। অন্য দিকে হোসেন সাহেবের গলি ও বুদ্ধিজীবী ২নং সড়কে সিটি কর্পোরেশনের সুয়ারেজের কাজ চলচ্ছে। আর জায়গায় জায়গায় সুয়ারেজের পাইপ ফেলে, রাস্তা কেটে এলাকা গুলো আরও দুর্গম করে তুলেছে।

জলাবদ্ধতা নিয়ে এলাকাবাসির কাছে জানতে চাইলে ক্ষোভে ফেটে পরে তারা। ওয়েষ্ট ধানমন্ডি ইউসুফ হাই স্কুলের শিক্ষক মাহাবুব রহমান বুদ্ধিজীবী ১নং রোডের বাসিন্দা। তিনি  বলেন, ‘প্রতিদিন দুপুরে হাঁটু পানি দিয়ে আশে পাশের চার গলিতে ভরে যায়। আশে পাশের  প্রতিটি বাড়িতে শিশুদের স্কুলে  যেতে সমস্যা হচ্ছে। বাঁধা হয়ে এই ময়লা পানি পাড়িয়ে সবাইকে নিত্যদিনের পানি কাজ করতে হচ্ছে।’

বাবরী মসজিদের ইমাম মুফতি মাহামুদুর হাসান বলেন, ‘এই ময়লা পানি কারণে মসজিদে আসা যাওয়া করার সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মুসল্লিদের। মাঝে মাঝে পানি বেড়ে গেলে মসজিদেও পানি ঢুঁকে যায়। যাতে অনেক বেগ পেতে হয়।’

বাবরী মসজিদের রোডের ৮৪/এম বাড়ির মালিক হাজী মো.আফজাল হোসেন বলনে, ‘এই সমস্যা এক দুই দিনের না। নির্বাচনের পর থেকেই সমস্যা। এতে প্রায় ১২ মাস আমাদের ঘর ফাঁকা থাকচ্ছে।’

কুদ্দুস মিয়া নামের একজন ভাড়াটিয়া বলেন,‘বাঁধ হয়ে ভাড়া থাকতে হচ্ছে এখানে। বাচ্চাদের স্কুল এই মহলাতে হওয়ার কারণে অন্য মহালাতেও যেতে পাড়ছি না।’

কাজের ধীর গতির কারণে জানার জন্য সিটি কর্পোরেশনের ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কথা হয় সাব ইজারাদার ফারুকের সাথে। ফারুক বলেন, ‘আমাদের কাজ চলছে, সময় মত শেষ হবে। এলাকার মানুষ ছয়-সাত মাস কষ্ট করছে। আরও দুই তিন মাস কষ্ট করলে কিছু হবে না।’

৩৪নং কমিশনার তাঁহের খানের সাথে কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ে গেলে তাকে না পেয়ে কথা হয় কার্যালয়ে কর্তব্যরত সচিব নুরুল হকের সাথে। তিনি  বলেন, ‘আমরা চেষ্টা মত কাজ চালাচ্ছি। এই সড়ক ছাড়া অন্য অনেক কাজ আছে। সেগুলোও তো করতে হবে’।

কমেন্টস