স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ, ৩ মণ মিষ্টি বিতরণ, এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় !

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৮, ২০১৭

জাহিদ তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি- 

সোমবার দ্বিবাগত রাতে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর গ্রামের আনন্দ সরকার বর্তমান নাম ওসমান গণি (৫০),স্ত্রী দিপালী রানী থেকে রাবেয়া বসরী (৪০), ছেলেদের বর্তমান নাম ওলিউল্লাহ (২৫), সুমন (২২), রানা (১২) ও ওমর আলী (৪) সনাতন ধর্ম ছেড়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ তিন মাস পূর্ব থেকে আনন্দ সরকার স্বপরিবার নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়। স্থানীয় বিভিন্ন লোকের কাছে সহযোগিতা চাইলে ধর্ম পরির্বতনের কোন সহযোগিতা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হাটফাজিলপুর মানব কল্যাণ দাতা সংস্থার সদস্যদের নিকট স্বরণাপন্ন হয়। তখন সংস্থার সদস্যরা স্থানীয় চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিশ্বাসকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি এই সংস্থার সদস্যদের উপর সমস্থ দায়িত্ব অর্পন করেন। দাতা সংস্থার সদস্যরা আনন্দ সরকারের স্বপরিবারের সদস্য নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল ঝিনাইদহ বিজ্ঞ জেলা নোটারী পাবলিকের কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে এভিডেভিটের এর মাধ্যমে সনাতন ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

এদিকে এই ঘটনা গ্রামে পৌঁছানোর আগেই এলাকায় জানা জানি হলে তার বাড়িতে শতশত লোকের সমাগম ঘটে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিশ্বাস মানব কল্যাণ দাতা সংস্থার সদস্য নিয়ে হাটফাজিলপুর বাজার জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ ইদ্রিস আলীকে দিয়ে তওবা ও কালেমা পাঠ করিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায়।

এ সময় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মানব কল্যাণ দাতা সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে নব মুসলিম ওসমান গণির পরিবারের সদস্যদেরকে পাঞ্জাবী, পাইজামা, বোরকা, টুপি, তজবী, কুরআন ও চাল ডালসহ পরিবারের সমস্ত আসবাবপত্র কিনে দেয় বলে মানব কল্যাণ দাতা সংস্থার সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক মোল্ল্যা জানান।

এই ব্যাপারে নব মুসলিম ওসমান গণির স্ত্রী রাবেয়া বেগম জানান, দীর্ঘ তিন বছর আগে তাদের বাড়িতে হঠাৎ একজন আলেম ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করতে চায় তখন সে দিশে হারা হয়ে মাটি দিয়ে তার ঘরের বারান্দার এক পাশে লেপে দেয় এবং বাক্স থেকে একটা নতুন চাদর এনে দিয়ে তাকে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে।

নামাজ শেষে উপস্থিত আলেম ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বাড়ি ওপারে বলে চলে যায়। চলে যাবার কিছু সময় পরে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে এলাকার কোথাও পাওয়া যায় না। তখন থেকেই আনন্দ সরকারের সদস্যরা ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুগত হয়ে পরে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে।

ঘটনাটি আনন্দ সরকারের স্ত্রি তার সমস্থ আত্বীয় সজনদেরকে জানালে তারা কেই কোন বাধা প্রদান করেনি। যে কারনে আনান্দ সরকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বেচ্ছায় গত সোমবার দ্বিবাগত রাতে মানব ক্যলাণ দাতা সংস্থার মাধ্যমে হাটফাজিলপুর বাজারে শতশত লোকের উপস্থিতে সনাতন ধর্ম ছেড়ে তওবা ও কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিশ্বাস জানান, আমার উপস্থিতেই তারা স্বপরিবারে মিলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তখন আমি প্রায় ৩ মণ মিষ্টি উৎসুক জনতার মাঝে বিতরণ করি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Advertisement

কমেন্টস